ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সাবেক এমডির বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে লোমহর্ষক বর্ণনা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:২৩:৩৭
সাবেক এমডির বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে লোমহর্ষক বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে শিশুটির জবানবন্দি থেকে উঠে আসে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শুরুতে বিচারক বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর। উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তার বাসায় এমন ঘটনা জাতির জানা প্রয়োজন।

আদালতে যা উঠে আসে

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবীরা জানান, শিশুটিকে প্রথমে খাটে রাখা হলেও পরে মেঝে, বারান্দা এবং শেষ পর্যন্ত বাথরুমে রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো, গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো, লাঠি দিয়ে পেটানো হতো এবং চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হতো।

ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপিত জবানবন্দি অনুযায়ী, শিশুটির মাথা, গলা, হাত, উরু ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় পানির সংস্পর্শে থাকার কারণে পায়ের নখে পচন ধরেছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং শীতের কাপড়ও দেওয়া হয়নি।

জবানবন্দির কিছু অংশ আদালতে পাঠ করে শোনানো হলে উপস্থিত আইনজীবীদের কেউ কেউ তা আর না পড়ার অনুরোধ জানান।

রিমান্ড শুনানি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল মিয়া চার আসামির সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত শফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন, তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং অপর গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এ কে আজাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তার দাবি, শফিকুর রহমান অধিকাংশ সময় অফিসে থাকতেন এবং ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় শিশু দেখাশোনার কাজের জন্য গত বছরের জুনে মোহনাকে নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২ নভেম্বর তার বাবা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখেন। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটি অসুস্থ বলে জানানো হলে তার বাবা গোলাম মোস্তফা তাকে নিয়ে যান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর গ্রেপ্তার চার আসামিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্ত চলমান রয়েছে।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে