ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভয় জয় করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৪০:০৩
ভয় জয় করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভয়কে অতিক্রম করে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি ভোট কেবল সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নয়—এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের নীরবতার প্রতিবাদ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জবাব এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠনের শপথ। তাঁর ভাষায়, এই ভোট প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশ আর কখনোই তরুণ, নারী ও সংগ্রামী মানুষের কণ্ঠ হারাতে দেবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদে গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি প্রজন্ম এবার প্রথমবারের মতো প্রকৃত অর্থে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা ছিলেন সামনের সারির যোদ্ধা এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, এই নির্বাচন নারীদের জন্য কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি নতুন সূচনার প্রতীক।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গণতন্ত্রে যেমন বিজয় স্বাভাবিক, তেমনি পরাজয়ও অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট—যা সারা জাতির বহুদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধা ও আপামর জনগণের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না, জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু দিন আসে, যেগুলো ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে দেয়। তাঁর মতে, আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন—যেদিন একদিকে নতুন সরকার গঠনের ভোট হবে, অন্যদিকে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা জনগণের। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন ভূমিকা রেখেছে। তাঁর মতে, এই শান্ত পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি—এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।

তবে এই শান্তিপূর্ণ আবহের মধ্যেও গভীর বেদনার কথা উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ও প্রচারকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সহিংস ঘটনায় কিছু মূল্যবান প্রাণ হারাতে হয়েছে, যা জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পূর্ববর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এত বিপুল সংখ্যক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণ খুব কমই দেখা গেছে।

ড. ইউনূস বলেন, এটি কেবল আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়—বরং একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে যে জনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক রূপ। রাজপথের সেই দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ কারণে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে