×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটের মধ্যেই সঞ্চয়পত্রে চমক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ০৯:৩০:০৩
শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটের মধ্যেই সঞ্চয়পত্রে চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটের মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অনিয়ম, দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল হয়ে পড়া কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় থাকা কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের একটি অংশের আস্থা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংকের আমানতের সুদহার বাড়লেও অনেক গ্রাহকের মধ্যে পুরোপুরি আস্থা ফিরে না আসায় তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের আসল ও সুদ পরিশোধের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাসটিতে নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ আগের আসল ও সুদ পরিশোধের চেয়ে বেশি ছিল।

এর আগে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরো অর্থবছরজুড়েই সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ও নগদায়নের ব্যবধান খুব কম ছিল। কোনো কোনো মাসে নতুন বিক্রির তুলনায় পুরোনো সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় নিট বিক্রি নেতিবাচকও হয়েছিল।

বিশেষ করে গত জুনে নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রির তুলনায় আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি। ফলে অর্থবছরের শেষ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

তবে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই চিত্রে পরিবর্তন দেখা গেছে। জুলাইয়ে নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রি পুরোনো সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধের তুলনায় ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা বেশি হওয়ায় নিট বিক্রিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট, তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদহার—সব মিলিয়ে এর চাহিদা বাড়তে পারে।

তবে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বৃদ্ধিকে শুধু ব্যাংক ও শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরে যাওয়ার ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের সঞ্চয়ের প্রবণতা, সুদের হার, বিনিয়োগের বিকল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে চলতি অর্থবছরের পরবর্তী মাসগুলোতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জুলাইয়ের ইতিবাচক চিত্রটি সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে স্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য আরও কয়েক মাসের তথ্য প্রয়োজন হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে