৩৮২২ কোটির ইলেকট্রিক ট্রেন: বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যস্ততম রেলপথগুলোর একটি নতুন প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক ট্রেনের আওতায় আসবে। তবে প্রকল্পটি ঘিরে যেমন আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিদ্যুৎ সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণের বোঝা এবং ভূমি অধিগ্রহণসহ কয়েকটি বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি একনেকের সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা EMU Train চালুর লক্ষ্য রয়েছে। প্রায় ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১৬ সেট বৈদ্যুতিক ট্রেন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ট্রেন সেটে থাকবে পাঁচটি করে বগি। এর মাধ্যমে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও তুলনামূলক আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ। বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় বলা হয়েছে, একটি EMU ট্রেন পূর্ণ সক্ষমতায় চলার সময় প্রায় ২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। ১৬টি ট্রেন সেট নিয়মিত চলাচল করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হবে।
ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এই অতিরিক্ত চাহিদা কতটা সামলাতে পারবে। বিশেষ করে ট্রেন চলাচলের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে পুরো রেলসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বিদ্যুৎ অবকাঠামো কীভাবে প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা কী থাকবে, সেটিই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় ভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ রেলের বিদ্যমান জনবলের একটি বড় অংশ ডিজেল ইঞ্জিন ও প্রচলিত রেলপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ। ফলে নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে প্রকৌশলী, চালক, কারিগরি কর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিলে ট্রেন মাঝপথে আটকে পড়ার ঝুঁকিও আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই ব্যাকআপ কতক্ষণ কার্যকর থাকবে, কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কী হবে—এসব বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের অর্থায়নে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ফলে প্রকল্পের মোট পরিচালন ব্যয়, ঋণের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ ভাড়া কাঠামো—সবকিছু মিলিয়ে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
এদিকে রেলপথের পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করতে ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও রয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণে রেললাইনের পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কিছু পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের উচ্ছেদ বা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
পরিবেশগত দিক থেকে অবশ্য বৈদ্যুতিক ট্রেনের সম্ভাব্য সুবিধা রয়েছে। ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন ব্যবহারের ফলে রেলপথের আশপাশে সরাসরি জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমতে পারে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১২ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ যদি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কেন্দ্র থেকে আসে, তাহলে মোট পরিবেশগত সুফল কতটা হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। অর্থাৎ রেলপথে ডিজেল পোড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পরিবেশে কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, সেটিও সামগ্রিক পরিবেশগত মূল্যায়নের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। তবে প্রকল্পটির সাফল্য শুধু ট্রেন কেনা বা বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের ওপর নির্ভর করবে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দক্ষ জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ পরিশোধ, যাত্রীভাড়া, নিরাপত্তা, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন এবং পরিবেশগত প্রভাব—সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
উন্নত প্রযুক্তির এই রেলসেবা বাস্তবে কতটা কার্যকর, সাশ্রয়ী ও টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরবর্তী পরিচালন ব্যবস্থাপনার ওপর।
মুসআব/
পাঠকের মতামত:
- ৩৮২২ কোটির ইলেকট্রিক ট্রেন: বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে?
- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অতিরিক্ত শেয়ার নিয়ে বিএসইসির কড়া নির্দেশ
- পিংক বাসে প্রতিদিনই লোকসান, যাত্রী না পাওয়ার নেপথ্যে ৫ কারণ
- বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নিয়ে যা জানা গেল
- ১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে ১৯ বছরের তুহিনের বন্ধুত্ব যেভাবে
- আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে মিলল স্বস্তির খবর
- মসজিদের ভেতর চেয়ার-সোফা, আয়নুল হকের সভা নিয়ে যা জানা গেল
- ব্যাংক-এমএফএসের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম
- ভারতে হু হু করে কেন বাড়ছে এআই চশমার চাহিদা
- সিনেমার সোনালী তারকাদের আবেগঘন আড্ডা
- চুয়েটে হঠাৎ নতুন ভিসি, ক্ষোভে আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা
- আদালতে যা করলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী
- ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন গণমাধ্যমের মামলা
- মসজিদে সোফা পেতে এমপি’র সভা, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
- পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের নতুন অর্থায়ন চুক্তি
- তদন্তের মুখে ১৭ মাসে ৩৫১ শতাংশ বাড়লো ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার
- বহুজাতিক কোম্পানির ৮৫ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়লেন বিদেশিরা
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর চিরকুট নিয়ে যা বললেন গবেষক
- পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত
- নগদ ও আইএফআইসি ব্যাংকের নতুন চুক্তি
- ছেলে-মেয়ের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত কী? জানুন শরিয়তের নির্দেশনা
- সোনালী ব্যাংকের মুনাফায় বড় লাফ, এক বছরে বেড়েছে ১৯৩ শতাংশ
- চুরির পর নতুন নোটে খরচ, যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল চক্র
- এবার ঢাকার এমন সাহসে কাঁপছে দিল্লি!
- বাড়িওয়ালা-ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আইন
- রাজনীতির বাইরে জিন্নাহর যে পরিচয় সামনে আনলেন ফাহাম আব্দুস সালাম
- স্ত্রীর মৃত্যুর দিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত যেখানে ছিলেন এমপি নজরুল
- কবর থেকে তোলা হবে চিত্রনায়ক ও তার বাবার মরদেহ, জানা গেল কারণ
- এক ট্রিপেই বাড়তি ৫ হাজার টাকা; বাসভাড়া নিয়ে বড় দাবি
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ২০ দিনে নতুন আমানত ২৭০০ কোটি টাকা
- অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ৫ হাজার টাকা! তদন্তে মিলল নতুন তথ্য
- স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের ঘোষণা
- প্রবাসীদের জন্য সুখবর, ৩ শহরে কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ
- টানা উত্থানের পর স্বাভাবিক দর সংশোধন শেয়ারবাজারে
- ২১ সেপ্টেম্বর ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ২১ সেপ্টেম্বর লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ সেপ্টেম্বর দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ সেপ্টেম্বর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ, প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে টাকা তোলার হিড়িক, নতুন আমানতেও বড় অঙ্ক
- এবার রিটেইল পোর্টফোলিও বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর দাদির মুখে নতুন অভিযোগ
- ৫ মিউচুয়াল ফান্ডের অডিট রিপোর্টে আপত্তি
- গ্রামীণফোনের অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, মামার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর নেপথ্য ৫ কারণ
- ফার্মা-গার্মেন্টসসহ শিল্পখাতে নতুন দিকনির্দেশনা, গুরুত্ব পাচ্ছে আইপিআর
- সচিবালয় অভিমুখে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা
- ডিভিডেন্ড পেলো বিনিয়োগকারীরা
- ডিসেম্বর ঘিরে হাসিনার মাস্টারপ্ল্যান
- দেশের বাজারে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম
- উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পর বড় সুখবর নিয়ে আসছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বিকাশ-নগদ-রকেটসহ সব ব্যাংকে নতুন নির্দেশনা, কার্যকর ১ অক্টোবর
- অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সহজ নিয়ম
- শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে আসছে যেসব নতুন উদ্যোগ
- ব্যাংকের শেয়ার কিনতে নতুন সীমা, বড় নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
- এবার বাংলাদেশের সাথে বদলা নিচ্ছে ভারত
- খতিয়ানের মাধ্যমে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম
- মাস্টাররোল কর্মীদের নিয়ে সরকারের নতুন পদক্ষেপ
- পে-স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হলো তালিকা
- পেনশন গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা, যুক্ত হচ্ছে যেসব সুবিধা
- পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর, নমিনি পাবেন বিশেষ সুবিধা
- বাড়িওয়ালা-ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আইন
- ভারতের ছকে অকেজো বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর
- ৩৮২২ কোটির ইলেকট্রিক ট্রেন: বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে?
- পিংক বাসে প্রতিদিনই লোকসান, যাত্রী না পাওয়ার নেপথ্যে ৫ কারণ
- বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নিয়ে যা জানা গেল
- ১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে ১৯ বছরের তুহিনের বন্ধুত্ব যেভাবে
- আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে মিলল স্বস্তির খবর













