ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

ডিএসইর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:৩২:৩৭
ডিএসইর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চাকরিচ্যুত এক নারী কর্মীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন, বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে নোটিশে।

দাবি পূরণ না হলে মানহানির ফৌজদারি মামলা এবং অন্তত ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ও অ্যাডমিন) হাসান তারেক চৌধুরী এবং জেনারেল ম্যানেজার ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান তাজুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর এইচ খান নোটিশটি পাঠান।

নোটিশটি ডিএসইর সাবেক এক্সিকিউটিভ মারিয়াম আক্তারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট ডিবিসি ২৪/৭ নিউজের একটি প্রতিবেদনে অংশ নিয়ে তিনি ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তার নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গুরুতর, মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদনে দেওয়া বক্তব্যের মর্মার্থ হলো—ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ও অ্যাডমিন) এবং জেনারেল ম্যানেজার (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ) নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ডিএসইর পরিচালক সৈয়দা জাকেরিন বখত নাসিরকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেও এ ধরনের লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যাওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা তাদের পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেবেন এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কিছু ব্যক্তিকে আগেই বাছাই করে রাখা হয়েছে—এমন ইঙ্গিতও ওই বক্তব্যে দেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

নোটিশে এসব বক্তব্যকে নিছক মতামত বা সমালোচনা হিসেবে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ প্রদান, দুর্নীতি বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকা, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই, নথিপত্র বা যথাযথ তথ্যগত ভিত্তি ছাড়াই এসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা

আইনি নোটিশে ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ডিএসই একটি নিয়ন্ত্রিত ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রায় ৩০৭টি ট্রেক হোল্ডার কোম্পানি, ৩৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং প্রায় ১৭ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নোটিশ অনুযায়ী, জেনারেল ম্যানেজার এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) সুপারিশ করে। পরে সেই সুপারিশ ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসব বক্তব্য প্রচারের কারণে ডিএসইর দুই কর্মকর্তার সুনাম, পেশাগত মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারার আওতায় প্রাথমিকভাবে মানহানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই আইনের ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তির বিধান রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের প্রমাণ দিতে ৭ দিনের সময়

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দেওয়ার জন্য চাকরিচ্যুত ওই নারীকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কথিত ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার তারিখ, সময় ও স্থান, কার কাছে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, সে-সংক্রান্ত ব্যাংকিং বা অন্য কোনো নথি, অডিও-ভিডিও কিংবা ইলেকট্রনিক প্রমাণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই অর্থ প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগের সম্পর্কের প্রমাণও দিতে বলা হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের জন্য আগে থেকেই যেসব ব্যক্তিকে বাছাই করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের পরিচয় এবং এ-সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিতে বলা হয়েছে।

একই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভিডিও, পোস্ট, রিল ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসইর দুই কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে লিখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্তত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিজ খরচে প্রকাশ্য ক্ষমা ও বক্তব্য প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানেও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে ডিএসইর ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুনরায় প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার কিংবা শেয়ার না করার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামাও চাওয়া হয়েছে।

৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করার হুঁশিয়ারি

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে উল্লিখিত দাবিগুলো পূরণ করা না হলে ডিএসইর দুই কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় ফৌজদারি মামলা এবং সুনামহানি ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য দেওয়ানি মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার আইনজীবী ফি, আদালতের খরচসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ও অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো আইনসম্মত সমালোচনা বা অভিযোগ করা কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সদ্ভাবনাপূর্ণভাবে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে ডিএসইর কর্মকর্তাদের আপত্তি নেই। তাদের আপত্তি হলো—কোনো আইনগত বা তথ্যগত ভিত্তি ছাড়াই প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিয়োগসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা।

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে