ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

তারেকের দিল্লি সফরের বিবৃতি দিয়েই সরিয়ে নিল ভারত

২০২৬ আগস্ট ২১ ১৮:২১:৩৬
তারেকের দিল্লি সফরের বিবৃতি দিয়েই সরিয়ে নিল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। তবে প্রকাশের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রকাশিত প্রাথমিক বিবৃতিকে ঘিরে ধারণা তৈরি হয়েছিল, পরদিন অর্থাৎ শনিবার থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর শুরু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সফরটি নিয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত প্রহরী পরিবর্তনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

‘আগামী শনিবার প্রহরী পরিবর্তনের অনুষ্ঠান হবে না’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে আগামী শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে প্রহরী পরিবর্তনের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

তবে প্রকাশের কিছু সময় পরই রাষ্ট্রপতি ভবনের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট মাধ্যম থেকে বিবৃতিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল ৩টার দিকে প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে শুধু জানানো হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘আগামী শনিবার প্রহরী পরিবর্তনের অনুষ্ঠান হবে না’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দিল্লি বা ঢাকা—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সফরের ইঙ্গিত দিয়ে বিবৃতি প্রকাশের পর সেটি প্রত্যাহারের ঘটনাটি নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের সফর উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রটোকলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত এই অনুষ্ঠানে ফোরকোর্টে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সফররত অতিথির সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে সফররত নেতার সম্মানে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে নৈশভোজের আয়োজনেরও প্রচলন রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়।

প্রটোকল অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আগের দিন পূর্ণাঙ্গ পোশাকে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা উল্লেখ থাকায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে