ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

শিক্ষিকাকে ২৭ বার ছুরিকাঘাতে হত্যা, ‘বাবু’ শব্দেই মিলল রহস্যের সূত্র

২০২৬ আগস্ট ২১ ১১:১৭:১৬
শিক্ষিকাকে ২৭ বার ছুরিকাঘাতে হত্যা, ‘বাবু’ শব্দেই মিলল রহস্যের সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার কন্ডামল্লেপল্লীতে ৪৮ বছর বয়সী স্কুল প্রধান ও পরিচালক ক্যাল্লু রূপা রেড্ডি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অর্থ ও বিলাসী জীবনযাপনের আশায় হত্যার পরিকল্পনা করা দুই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদন এনডিটিভির।

নগরজুনা পাবলিক স্কুলের প্রধান রূপা রেড্ডিকে গত ১২ আগস্ট সকালে তার নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে ছিল ২৭টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। ঘটনার সময় তার স্বামী হায়দরাবাদে ছিলেন। রূপা রেড্ডি ফোনে সাড়া না দেয়ায় তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ পাঁচটি দল গঠন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, আঙুলের ছাপ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি বিশ্লেষণের পাশাপাশি ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান রূপা রেড্ডির শেষ ফোনালাপ থেকে। ফোনটি বন্ধ হওয়ার আগে তিনি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই কথোপকথনে শেষ উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘বাবু’।

পুলিশ কর্মকর্তা শরৎ চন্দ্র পাওয়ার সাংবাদিকদের জানান, ওই শব্দটি কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দেন। কারণ, রূপা রেড্ডি তাদের শিক্ষার্থীদেরও স্নেহ করে ‘বাবু’ বলে ডাকতেন।

এরপর শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পাঁচজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়, যারা ঘটনার পর স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে গত কয়েক দিনে অস্বাভাবিকভাবে বেশি অর্থ খরচ করতে এবং পার্টি করতে দেখা যায়। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তাদের আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, রূপা রেড্ডির সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। তাদের হোস্টেলের ব্যাগ থেকে নগদ অর্থ ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়ার পর রূপা রেড্ডি তাদের ভর্ৎসনা করেন এবং বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানান। পরে তাদের হোস্টেল থেকে সরিয়ে ডে-স্কলার করা হয়। পুলিশের ধারণা, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপা রেড্ডির ওপর তাদের ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার আগে প্রায় পাঁচ দিন ধরে তারা পরিকল্পনা করে এবং রূপা রেড্ডির বাড়িতে নজরদারি চালায়। পরিচয় গোপন রাখতে তারা একটি ছুরি ও গ্লাভস কেনে। হত্যার দিন অভিযুক্তদের একজন মাঙ্কি ক্যাপ ও গ্লাভস পরে রূপা রেড্ডির বাড়িতে ঢোকে। পুলিশ জানিয়েছে, সে শোবার ঘরে রাখা প্রায় আড়াই লাখ টাকা দেখতে পায় এবং তা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

কিন্তু পালানোর সময় তার মাঙ্কি ক্যাপ খুলে যায়। রূপা রেড্ডি তাকে চিনে ফেলেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছুরি দিয়ে ২৭ বার আঘাত করে। হত্যার পর অভিযুক্তরা নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তারা রক্তমাখা পোশাক ও মাঙ্কি ক্যাপ মাটিতে পুঁতে ফেলার চেষ্টা করে। পরে তারা গোয়ায়ও ঘুরতে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে কয়েকটি নোটে রক্তের দাগ ছিল। এছাড়া অভিযুক্তদের কেনা একটি আইফোন এবং রূপা রেড্ডির মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে