ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

দুদকে অভিযোগ দেওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

২০২৬ আগস্ট ১২ ১১:৪৮:০৪
দুদকে অভিযোগ দেওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগকারী ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমিতে পাঠানো হয়েছে। বরখাস্তের সময়ে তিনি মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন বলে জানা গেছে।

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ইয়াসীন আলী গত ২৯ জুলাই দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (মাসুদ) ওরফে এস আলমসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেনামি প্রতিষ্ঠানে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাত ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

এ নিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হেড অফিসের অনুমোদন না নিয়ে দুদকে অভিযোগ করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ইয়াসীন আলীর দাবি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি দুদকে অভিযোগটি জমা দিয়েছেন। তাকে কেন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বরখাস্তের শর্ত কী—এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

ইয়াসীন আলী বলেন, এস আলমের ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার পর একটি মামলার তথ্য সরবরাহের অংশ হিসেবে দুদককে ঋণসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। কমিশন গঠনের পর অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগকারী কর্মকর্তা হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়াই দুদকে অভিযোগ করেছেন। এ কারণে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ তাকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

৫০০ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ

গত ২৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী দুদকে লিখিত অভিযোগটি করেন। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামের বানান ভুল করে ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ লেখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার রাষ্ট্রপতি পরিচয় উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে সাহাবুদ্দিন, এস আলমসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া, তা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করেন। পর্যাপ্ত জামানত ও নিশ্চয়তা না থাকা সত্ত্বেও এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়। এতে ইসলামী ব্যাংক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড একসময় একটি রুগ্ণ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগসীমা ছিল ১০০ কোটি টাকা। পরে প্রভাব খাটিয়ে ধাপে ধাপে ওই সীমা বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকা এবং একপর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে হেড অফিসে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২০ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বিভিন্ন সভায় এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়।

ঋণ পরিশোধের জন্য ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাগাদাপত্র এবং চূড়ান্ত তাগাদাপত্র পাঠানো হলেও ঋণ পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে আলহাজ মো. ইউনুস বাদল। একই অভিযোগে গ্যালাক্সি সোয়েটার্স অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন পরিচালককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম (মাসুদ) ওরফে এস আলমকে ওই ঋণসুবিধার সুবিধাভোগী হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, নির্বাহী কমিটির সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার নামও রয়েছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে