ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বেনজীর প্রত্যর্পণে নতুন মোড়, চাইল আরও নথি দুবাই পুলিশ

২০২৬ জুলাই ৩১ ১৭:৩৮:০৯
বেনজীর প্রত্যর্পণে নতুন মোড়, চাইল আরও নথি দুবাই পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কারাগারে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দেশটি নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেসব মামলার প্রাথমিক নথি পর্যালোচনার পর দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কিছু আইনি ও কারিগরি তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, মামলাগুলোর তদন্তকারী সংস্থা দুদক প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ করেছে।

তার ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নথিগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে সেগুলো দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করবে আইনি আনুষ্ঠানিকতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর।

বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দি প্রত্যর্পণ (Extradition) চুক্তি না থাকায় বিষয়টি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—

অপরাধসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন

দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য

আদালতে গ্রহণযোগ্য নথি ও তথ্য উপস্থাপন

কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলারা আফরিনের মতে, এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই দেশটির আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

বেনজীর আহমেদ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অবসরের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে