ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের নতুন অবস্থান

২০২৬ জুলাই ৩১ ১৫:২০:৫৮
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের নতুন অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সম্প্রতি প্রকাশিত সংসদীয় কমিটির 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর বিষয়টি কমিটিতে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের মানবিক নীতি ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশটিতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেয় না এবং এ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে।

সংসদীয় কমিটি সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখে সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা। তাই দ্রুত চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

তাদের মতে, নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে