ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এআই দিয়ে বদলে যাবে জনপ্রশাসন: ইসমাইল জবিউল্লাহ

২০২৬ জুলাই ৩০ ২১:৪৭:১২
এআই দিয়ে বদলে যাবে জনপ্রশাসন: ইসমাইল জবিউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসন আরও জনমুখী হয়ে উঠবে বলে অভিমত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দক্ষ, উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ, মর্যাদাবান ও উজ্জ্বল বাংলাদেশ গড়তে মেধা, শ্রম ও সততার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ১৪৪তম ও ১৪৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগের প্রশাসন কেবল কাগজপত্র সামলানোর কাজেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নীতি বিশ্লেষণ, সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, দুর্নীতি দমন এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই প্রযুক্তি দক্ষভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআই-নির্ভর করে আরও কার্যকর করার ওপরও জোর দেন তিনি।

দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত করতে হলে তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও চামড়া শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন ও জ্ঞানভিত্তিক সেবা খাতকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন উপদেষ্টা। এই লক্ষ্যে সরকার চলতি অর্থবছরে স্টার্টআপ খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বলেও জানান তিনি।

চীনের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ মডেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ধরনের একটি প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত একটি জেলায় বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় পদবি দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, সততা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা দিয়ে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, সময় বাঁচানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি কর্মকর্তাকে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলেছে, আর এই যাত্রায় রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়সহ সব স্তরের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মজীবনের পথে নানা চ্যালেঞ্জ আসবেই, তবে প্রতিটি সংকটকেই সুযোগে পরিণত করার মানসিকতা থাকতে হবে। জ্ঞানচর্চা চালিয়ে যাওয়া এবং নতুন প্রযুক্তি ও ধারণা গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তার কথায়, আজকের এই সনদ শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং আজীবন শেখার এক নতুন যাত্রার সূচনা মাত্র।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, ‘জনগণের জন্য প্রশাসন, প্রশাসনের জন্য জনগণ নয়’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে দুই ব্যাচের মোট ৭৪ জন কর্মকর্তাকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার, এনএপিডির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অনুষদ সদস্যরা।

সিরাজ.

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে