ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বিনিয়োগ পরামর্শ নীতিমালা হালনাগাদে বিএসইসির চার সদস্যের কমিটি

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:৪৬:৩৯
বিনিয়োগ পরামর্শ নীতিমালা হালনাগাদে বিএসইসির চার সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শ কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব করতে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান গবেষণা বিশ্লেষক বিধিমালা পর্যালোচনা করে বিনিয়োগ উপদেষ্টা সেবার জন্য আধুনিক ও কার্যকর নীতিমালার সুপারিশ দিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিএসইসির আইন বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, গঠিত কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে গবেষণা বিশ্লেষকদের জন্য একটি বিধিমালা কার্যকর থাকলেও সেখানে নিবন্ধন, অনুমতিপত্র প্রদান, অনুমতিপত্র নবায়ন এবং কার্যকর তদারকির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করছেন।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে বিনিয়োগ উপদেষ্টাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে অনুমতিপত্র প্রদান, নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন, বিধি প্রতিপালন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা গবেষণাভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ পরামর্শ পাবেন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরামর্শ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুর রহমান, উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাত এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী, যিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বর্তমানে কার্যকর গবেষণা বিশ্লেষক বিধিমালা-২০১৩ অনুযায়ী গবেষণা বিশ্লেষকদের সংজ্ঞা, যোগ্যতা, গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের মানদণ্ড, স্বার্থের সংঘাত, বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং গবেষণা পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিধিমালার আওতায় গবেষণা বিশ্লেষকরা তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিভিন্ন শিল্পখাত এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেন।

তবে বিদ্যমান বিধিমালায় গবেষণা বিশ্লেষকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, অনুমতিপত্র গ্রহণ, অনুমতিপত্র নবায়ন এবং নিয়মিত বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। ফলে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন মাধ্যমে বিনিয়োগ পরামর্শ দিয়ে আসছেন, যাদের কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকি করা বা জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কমিশন বিদ্যমান বিধিমালাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গবেষণা বিশ্লেষক ধারণাকে সম্প্রসারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ পরামর্শ কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে বিনিয়োগ পরামর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন বা অনুমতিপত্র, নির্ধারিত সময় পরপর অনুমতিপত্র নবায়ন, নিয়মিত বিধি প্রতিপালন, গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ প্রদান, নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কমিশনের সরাসরি তদারকির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে।

নতুন এই কাঠামো কার্যকর হলে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কমিশনের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত বিনিয়োগ পরামর্শকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীর নিজের কাছেই থাকবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে