ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দল থেকে বহিষ্কার হয়েও এমপি ছিলেন যেসব আলোচিত নেতা

২০২৬ জুলাই ২৩ ১০:৫৬:৪৬
দল থেকে বহিষ্কার হয়েও এমপি ছিলেন যেসব আলোচিত নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সংবিধান ও অতীতের একাধিক নজির বলছে, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয় না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার কারণগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধানে দল থেকে বহিষ্কারকে সদস্যপদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কয়েকজন সংসদ সদস্য পুরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানানো হবে বলে জানায়। এরপরই তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হতে পারে। তবে দল কাউকে বহিষ্কার করলে সদস্যপদ বাতিল হবে—এমন কোনো সুস্পষ্ট বিধান সংবিধানে নেই।

অতীতের কয়েকটি নজির

গোলাম মাওলা রনি: ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তবুও ২০১৪ সালে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী: ২০১৪ সালে বিতর্কিত বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে দলীয় বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়নি। ২০১৫ সালে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে আসন শূন্য হয়।

ডা. মুরাদ হাসান: ২০২১ সালে বিতর্কিত ফোনালাপ প্রকাশের পর মন্ত্রিসভা ছাড়েন এবং দলীয় পদ হারান। কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করায় একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এমপি ছিলেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান: ২০১৯ সালে গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের মেয়াদ অব্যাহত ছিল।

আবু হেনা: অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তৎকালীন স্পিকারের রুলিং অনুযায়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এইচ এম গোলাম রেজা: নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য পদ হারাননি।

সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দিলে অথবা স্পিকারের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তার আসন শূন্য হতে পারে।

অন্যদিকে, ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আদালতের রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড, অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, অব্যাহতি না পাওয়া দেউলিয়া হওয়া, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারানো, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা বা আইন অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষিত হলে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে।

কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। তদন্ত ও শুনানি শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত দেয়।

সব মিলিয়ে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়া কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও তার সদস্যপদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংবিধানের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে