ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

হাসিনার পর টার্গেটে নড়বড়ে নরেন্দ্র মোদির গদি! 

২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:২৬:০৮
হাসিনার পর টার্গেটে নড়বড়ে নরেন্দ্র মোদির গদি! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাজধানী দিল্লির রাজপথে বড় ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকা আন্দোলনকে ঘিরে যন্তর মন্তরে ব্যাপক জনসমাগম হয়। শুরুতে কয়েক শ মানুষের কর্মসূচি হিসেবে ধারণা করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বড় সমাবেশে রূপ নেয়।

আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। প্রথম দিকে কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি সীমিত থাকলেও আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে শুরু করে।

যন্তর মন্তরে জনসমুদ্র

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লি ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হন। পরদিন সকালে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সংসদ ভবনমুখী বিভিন্ন সড়কেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

তবে পুলিশের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে সোমবার সকালে যন্তর মন্তরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপস্থিত হন। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা আন্দোলনকারীদের হিসাব করলে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে মিছিলের অনুমতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতা, পাথর ও গাছের ডাল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

এই আন্দোলনকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছে, আর ক্ষমতাসীন শিবির পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই বিক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে মোদি সরকারের ওপর কতটা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে, তা নির্ভর করবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও জনসমর্থনের ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় আকারের জনসমাবেশ সরকারবিরোধী অসন্তোষের একটি বার্তা বহন করতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি সরকার পতনের সংকট হিসেবে দেখার আগে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে