ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক অর্জনের হিসাব দিল সরকার

২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৩১:৪৮
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক অর্জনের হিসাব দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সংকটের সমাধানে ২০২৪-২৫ সময়ে গৃহীত কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং অর্জিত অগ্রগতির তথ্য জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়।

মন্ত্রী জানান, ওই সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে সংকটটি বৈশ্বিক আলোচনায় পুনরায় গুরুত্ব পায়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যেখানে ১০৫টি দেশ সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত ছিল। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

যাচাই সম্পন্ন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির সরকার।

তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রত্যাবাসন প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

এ পর্যন্ত আইওএমের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং আইআরসির মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

শুধু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৩৬ জন রোহিঙ্গা কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে রাখাইনে প্রত্যাবর্তনই সংকট সমাধানের মূল পথ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে এবং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালে তা ৪৯টিতে এবং ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৬।

মোহাম্মদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে