ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নতুন আয়ের খোঁজে সিডিবিএল, শর্ত পূরণে চাপ

২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৬:৩৮:৫৭
নতুন আয়ের খোঁজে সিডিবিএল, শর্ত পূরণে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের একমাত্র ইলেকট্রনিক শেয়ার সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবার মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। মূলত নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

তবে সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার আওতায় কাস্টডিয়ান হিসেবে নিবন্ধনের জন্য যেসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বেশ কয়েকটি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সিডিবিএল। ফলে এসব ঘাটতি দ্রুত পূরণ না হলে লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

সম্প্রতি কমিশনের মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের রেজিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি সিডিবিএলকে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে উৎসাহ দেয় বিএসইসি। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ কাস্টডিয়ান কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব শুধু ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নেই। ইউনিটহোল্ডারদের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যাংক লেনদেন তদারকির দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। আগে এসব কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির হাতে। গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া সংশোধিত বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের ক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার অধীনে সিডিবিএলের ২৫ ফেব্রুয়ারির আবেদন পর্যালোচনায় বেশ কিছু ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বা নিরীক্ষকের সনদ জমা না দেওয়া, কোম্পানি ও পরিচালকদের পূর্ণাঙ্গ সিআইবি অঙ্গীকারপত্র অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ঋণখেলাপি বা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের তথ্যসংবলিত হলফনামা, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ঋণসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও জমা দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও দাপ্তরিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে কাস্টডিয়ান টিমের তালিকা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লজিস্টিক সহায়তা ও ওয়েবসাইট সংক্রান্ত ঘোষণা অনুপস্থিত রয়েছে। একইসঙ্গে নির্ধারিত যোগ্যতার কমপ্লায়েন্স অফিসারের নিয়োগপত্র ও জীবনবৃত্তান্তও দাখিল করা হয়নি। পাশাপাশি রিস্ক বেইজড ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি বিধিমালা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন থাকার ঘোষণাও জমা দেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় কমিশন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭(১) অনুসারে বিধি ৩৮(১) মেনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব সিডিবিএলের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। লেনদেন কমে যাওয়ায় নিষ্পত্তি ফি থেকে আয় কমেছে। পাশাপাশি বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করায় আয় আরও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় কমে ৭ কোটিতে নেমেছে, যা আগের বছর ছিল ১৩ কোটির বেশি। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা ১৭ শতাংশের বেশি কমে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এসব ঘাটতি পূরণ করা গেলে সিডিবিএলের কাস্টডিয়ান হিসেবে নিবন্ধনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। অন্যথায় আবেদনটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে বা বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী এবং সে অনুযায়ী বিএসইসিতে আবেদন করা হয়েছে। কমিশন কিছু অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে, যা আগামী সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ান লাইসেন্স দিতে কমিশনের আগ্রহ রয়েছে। তবে এর জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের শর্তটি সিডিবিএল পূরণ করেছে, এখন বাকি শর্ত পূরণ হলেই লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে