ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ জানতে চান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকরা

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৫:১৫:১৬
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ জানতে চান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন ধারা যুক্ত করে আগের মালিকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে অনেকে আবার তাদের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এমনকি কোনো মুনাফা ছাড়াই শুধুমাত্র মূল টাকা ফেরত চাইছেন।

এই পরিস্থিতিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া আগের মতো চলবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন এসব ব্যাংকে নিয়োজিত প্রশাসকরা। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা চলমান সংকট তুলে ধরেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একত্রিত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য গত বছরের নভেম্বরে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যাদের সহায়তায় আরও চারজন করে কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন।

সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এ নতুন ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত ব্যাংকে যে অর্থ সহায়তা দিয়েছে, তার ৭.৫ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে, আর বাকি চারটি ব্যাংক পরিচালিত হতো এস আলম গ্রুপের অধীনে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসকরা জানিয়েছেন—দীর্ঘদিন ধরেই আমানতকারীরা সহজে টাকা তুলতে পারছেন না। তবে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণায় কিছুটা আস্থা ফিরেছিল। পরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত (হেয়ারকাট) জানানো হলে পরিস্থিতি আবার অস্থির হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দিলে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু নতুন আইনের এই ধারা যুক্ত হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তা বাড়ে।

এ অবস্থায় প্রতিদিনই আমানতকারীরা টাকা উত্তোলনের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রশাসকরা। অনেকে প্রাথমিকভাবে মুনাফা ত্যাগ করে কেবল মূলধন ফেরত নিতেও রাজি হচ্ছেন।

প্রশাসকদের মতে, চলমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো নতুন আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না। এমনকি আগে যে ঋণ আদায় হচ্ছিল, সেটিও প্রায় থেমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনে নতুন ধারা সংযোজনের উদ্দেশ্য কী—তা স্পষ্ট করা জরুরি। যদি পুরোনো মালিকদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকে, তবে সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং আমানতকারীদের অর্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নির্দেশনা দেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল এই পাঁচ ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একীভূত হয়ে গঠিত নতুন ইসলামী ব্যাংকে সরকার মূলধন হিসেবে দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত নিশ্চিত করতে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ৮৪.২৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬০ শতাংশ।

এছাড়া একই সময়ে দেশের ২২টি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণই ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে