ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

হাসিনাকে নিয়ে বড় টানাপোড়েন: অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত

২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৮:৩১:০১
হাসিনাকে নিয়ে বড় টানাপোড়েন: অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ–আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) অনুরোধ জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা এই অনুরোধটি “পর্যালোচনা করছে”—যা কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় হলেও এর অর্থ এই নয় যে দিল্লি এখনই শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। এটি মূলত একটি প্রক্রিয়াগত ভাষা, যার মাধ্যমে ভারত বিষয়টিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। তবে ভারতের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ সাধারণত এড়িয়ে চলে দেশটি। এই আইনি বাধা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। বিশেষ করে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় তিনি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বিষয়টি এখন শুধু আইনি নয়, বরং পুরোপুরি রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভারতের জন্য তিনি একদিকে যেমন অতীতের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, অন্যদিকে বর্তমান বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ফ্যাক্টর।

ঢাকায় নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি চাইছে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে, তবে একই সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থও বজায় রাখতে চাইছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত সত্যিই শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করে, তাহলে এটি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। আবার না করলে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন “আইনি প্রক্রিয়া বনাম কূটনৈতিক কৌশল”-এর মধ্যে আটকে আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত, এবং এটি ভবিষ্যতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে