ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

পুতুলকে সামনে এনে বড় পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ

২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৮:৩৬:৪৮
পুতুলকে সামনে এনে বড় পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুরুতে জামায়াতের কার্যক্রমকে ‘হাইপ’ হিসেবে দেখলেও এখন দলটির কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকার সন্দিহান হয়ে উঠেছে এবং কিছু তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

অন্যদিকে, পরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার পেছনে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে। ‘সংস্কার কমিশন’, ‘গণভোট’ ও ‘জুলাই সনদ’ ইস্যুতে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে সরকার। মূল দ্বন্দ্বটি এখন দাঁড়িয়েছে—রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস সংবিধান নাকি জনগণ।

এ প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা-এর রাজনৈতিক অবস্থান এবং সংবিধানভিত্তিক ক্ষমতার ধারণা বনাম বিরোধীদের জনগণভিত্তিক ক্ষমতার দাবির মধ্যে একটি বড় আদর্শিক সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ খুঁজছে বলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল-কে সামনে এনে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিত মুখ হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান এবং বর্তমান ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তাদের অবস্থানের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, যা দলটির জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এদিকে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট ও মজুতদারির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকার সংকট অস্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকেও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক আসতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস-এর উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

সব মিলিয়ে, দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস স্পষ্ট। বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে সামনে আরও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে