ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ওয়ান-ইলেভেনের ‘গোপন বৈঠক’-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:১৬:৫৮
ওয়ান-ইলেভেনের ‘গোপন বৈঠক’-এর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় রাতের অন্ধকারে শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠকের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তৎকালীন ডিজিএফআই পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিনের সমন্বয়ে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হতো। ভারতের বিশেষ পরিকল্পনায় সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের পক্ষ হয়ে এই গোপন লিয়াজোঁ বজায় রাখতেন আমিন। তবে এই প্রক্রিয়ায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন বর্তমানে রিমান্ডে থাকা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

মানবপাচার ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার হওয়া মাসুদ চৌধুরীকে ২৯ মার্চ (রোববার) দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ চৌধুরী কিছু তথ্য দিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং এর বড় একটি অংশ বিদেশে পাচারের বিষয়ে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম কুচক্রী হিসেবে পরিচিত ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকেও গত ২৫ মার্চ মিরপুর ডিওএইচএস থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে থাকা মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ২০০৭-০৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরিকল্পনা মূলত ২০০৬ সালের শেষ দিকেই শুরু হয়েছিল। মাসুদ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের নীল নকশায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ জড়িত ছিল এবং তাদের সহযোগিতা করেছিলেন ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তা। এছাড়া বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে পল্টন মোড়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ পাচারের তথ্যও ডিবির নজরে এসেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের মামলাও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আত্মসাৎকৃত বিশাল অঙ্কের টাকা উদ্ধার এবং মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীদের প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে পুনরায় মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে