ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

জয়া আহসানের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া কেবলই ডাস্টবিন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ২২:৩৪:৫৫
জয়া আহসানের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া কেবলই ডাস্টবিন

বিনোদন প্রতিবেদক: দুই বাংলার রূপালি পর্দার জনপ্রিয় মুখ জয়া আহসান তাঁর আসন্ন ভারতীয় বাংলা সিনেমা ‘ওসিডি’ নিয়ে ওপার বাংলার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন। সৌকর্য ঘোষালের পরিচালনায় এই সিনেমায় জয়াকে একজন চিকিৎসকের চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ (ওসিডি) এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় ‘পিডোফিলিয়া’ বা শিশু যৌন নির্যাতন। এটি এই পরিচালকের সঙ্গে জয়ার তৃতীয় কাজ, যা সামাজিক বাস্তবতার এক রূঢ় প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে।

সম্প্রতি ভারতীয় এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রে এর আগে ওসিডি বা পিডোফিলিয়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়িত করা হয়নি। তিনি মনে করেন, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়। জয়ার মতে, শিশুদের ব্যবহার করে যৌন আনন্দ খোঁজা একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি, যা ভুক্তভোগীর শৈশব ও পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা বা ক্ষত তৈরি করে।

সাক্ষাৎকারে দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তবে রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক বিভাজনের চেয়ে শিল্পের শক্তিকে বড় করে দেখেন তিনি। জয়ার সাফ কথা, শিল্প কখনো বিভেদ তৈরি করে না, বরং মানুষের মনকে জোড়া লাগায়। একজন প্রকৃত শিল্পী যখন তাঁর কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকেন, তখন তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করতে হয় না বা অন্য কোনো বাহ্যিক বিষয় নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় না।

নিজের কর্মক্ষেত্রকে জয়া কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্রে বন্দি রাখতে চান না। তিনি নিজেকে একজন ‘বাঙালি শিল্পী’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে নিজের কাজ পৌঁছে দিতে চান। ঢাকা বা কলকাতা নয়, বরং দুবাই কিংবা পাকিস্তানে থাকা বাঙালির ড্রয়িংরুমেও নিজের সিনেমা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, ভাষার বন্ধন কোনো নির্দিষ্ট সীমান্তের তোয়াক্কা করে না।

সামাজিক মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে চলা সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ বা বিদ্বেষকে জয়া অত্যন্ত তুচ্ছ ও সাময়িক বলে মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সোশ্যাল মিডিয়াকে তাঁর কাছে মাঝে মাঝে ‘ডাস্টবিন’ মনে হয়, যেখানে গুটিকয়েক মানুষ নেতিবাচকতা ছড়ায়। বাস্তবে সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কোনো কমতি নেই দাবি করে জয়া বলেন, গুটিকয়েক মানুষের এই বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রকৃত সত্য নয় এবং শিল্পী হিসেবে তিনি এসবে কান না দিয়ে সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতেই বেশি আগ্রহী।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে