ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

কিশোরীদের যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৪৬:৫৩
কিশোরীদের যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রেমিকা গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের পরিচালিত শিশু পাচার ও যৌন নির্যাতনের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া বা ‘গ্রুমিং’ চলত।

প্রথম শিকার হিসেবে একটি ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে, যাকে আদালতে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়, মিশিগানের একটি আর্টস ক্যাম্প থেকে টার্গেট করা হয়েছিল। এপস্টেইন নিজেকে একজন শিল্প অনুরাগী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বৃত্তি বা সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর মেয়েদের কাছে টানতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরিকল্পিত, যাতে কিশোরীরা সহজেই তার ফাঁদে পড়ে।

নথিতে আরও প্রকাশ হয়েছে, গিলেইন ম্যাক্সওয়েল কিশোরীদের কাছে ‘বড় বোন’ বা মেন্টর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতেন এবং তাদের বিশ্বাস অর্জন করে পরে যৌন নির্যাতনের জালে ঠেলে দিতেন। এভাবে এক কিশোরীকে ফাঁদে ফেলার পর তাকে অন্য মেয়েদের নিয়ে আসার জন্য ২০০ ডলার পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হতো। এছাড়া এপস্টেইন তার বিকৃত মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে নথিতে উল্লেখ করেছেন, ২৩ বছর বয়সী মেয়েদের ‘বুড়ো’ বলে বাদ দিতেন এবং যেটি তার নেপথ্য মানসিকতার একটি দিককে ফুটিয়ে তোলে, যেখানে তিনি বিশ্বাস করতেন ‘যত ছোট, তত ভালো’।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে ভুক্তভোগীরা ভয়ে চুপ থাকলেও এখন তাদের সাক্ষ্য, ইমেইল ও ডায়েরি এন্ট্রি প্রকাশিত হয়েছে। যদিও ২০১৯ সালে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে, ২০২১ সালে শিশু পাচারের অভিযোগে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল দণ্ডিত হন। এই ফাইলগুলোর প্রকাশের ফলে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও সম্পৃক্ততা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে