ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায়

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২৩:০৬:০৪
শেয়ারবাজারে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনিশ্চিত সূচক, স্থবির লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার থেকে সরকারের আয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

মূলত শেয়ার লেনদেনের ওপর আরোপিত কর থেকেই এই রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়। ফলে বাজারে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেনের স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারি কোষাগারে।

ডিএসইর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকার শেয়ারবাজার থেকে রাজস্ব পেয়েছে মাত্র ১১২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ১৫৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা বা প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও ২০২১–২২ অর্থবছরে শেয়ারবাজারে লেনদেনের জোয়ার থাকায় সরকার ২৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। সে বছর ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

কিন্তু সদ্য সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায়। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২২ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম।

গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক আশাবাদ তৈরি হয়। সে সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার ১৬ পয়েন্টে ওঠে এবং কোনো কোনো দিনে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনও দেখা যায়। তবে এই ইতিবাচক ধারা স্থায়ী হয়নি।

সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দুর্বল মুনাফা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণের কারণে বাজার ধীরে ধীরে আবার নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। মে মাসের শেষ দিকে সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৬১৫ পয়েন্টে। অর্থবছর শেষে সূচক দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে, যা পুরো বছরে প্রায় ৯ শতাংশ পতনের ইঙ্গিত দেয়।

বাজারে নতুন করে ক্যাশ বা পুঁজি বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের অনীহার কারণে লেনদেন কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় শেয়ারবাজারের বাজারমূলধনের অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র ১২ শতাংশে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এ বিষয়ে একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘শেয়ারবাজার সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মানুষ যত বেশি শেয়ার কেনাবেচা করবে, সরকারের আয় তত বাড়বে। গত অর্থবছরে বাজারে কার্যত কোনো গতি না থাকায় রাজস্ব আদায় তলানিতে নেমে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে এবং শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে সরকারের এই রাজস্ব প্রবাহ আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে