ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ঘরে নতুন বউ, বাইরে পুরনো দুই স্ত্রী! ইউপি সদস্যকে ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৭:৫৯:৩৬
ঘরে নতুন বউ, বাইরে পুরনো দুই স্ত্রী! ইউপি সদস্যকে ঘিরে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় একাধিক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেলের বিরুদ্ধে। স্বামীর স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে দুই নারী তাদের সন্তানসহ ইউপি সদস্যের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল রনগোপালদী ইউনিয়নের দেলোয়ার রাড়ির ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এক নারীকে এবং প্রায় তিন বছর আগে বরিশালের কদমতলী থানার আরেক নারীকে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় ওই নারীদের তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রেখে যেতেন নওফেল।

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে নওফেল তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত রোববার তারা নিজ নিজ সন্তান নিয়ে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে নওফেলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার আরেক নারীকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেছেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে নওফেল তাদের তাড়িয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে বিষয়টি দশমিনা থানা পুলিশ ও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী নারীদের ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী নওফেলের সঙ্গে তাদের বৈধ বিয়ে হয়েছে এবং তাদের গর্ভে তার সন্তান জন্ম নিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, নওফেল নেশাগ্রস্ত এবং একের পর এক নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে পরে তালাক দেন। এর আগেও প্রায় ২০ জন নারীকে বিয়ে করে তালাক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তারা স্বামী ও সন্তানের বাবার স্বীকৃতি দাবি করে বলেন, ন্যায়বিচার না পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

এ ছাড়া নওফেলের বাবা দেলোয়ার রাড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দেলোয়ার রাড়ি বলেছেন—এর আগেও অনেক নারী এসেছিলেন, তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান নওফেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি পারিবারিক বিষয়। পারিবারিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

রনগোপালদী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভুক্তভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইয়্যিদ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে