ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

হিটলারের মৃত্যুর পর তার কোটি টাকার সম্পত্তি পেলেন যারা 

২০২৫ অক্টোবর ০৬ ০৮:৪৮:০৯
হিটলারের মৃত্যুর পর তার কোটি টাকার সম্পত্তি পেলেন যারা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল অ্যাডলফ হিটলার বার্লিনের বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার শেষ উইল বা ওসিয়তনামায় লিখেছিলেন যে তার সমস্ত সম্পত্তি দলের কাছে যাবে এবং যদি দল বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে সরকারের কাছে যাবে। যদি সরকারও ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তার সিদ্ধান্তের কোনো প্রয়োজন নেই। এটি ছিল হিটলারের শেষ ইচ্ছার একটি অংশ যা তিনি ২৯ এপ্রিল ভোর ৪টায় তার রাজনৈতিক উইলের সাথে একটি পৃথক কাগজে লিখে তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

হিটলারের জীবনযাপন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, কিছু গবেষণা ও তথ্যচিত্র অনুযায়ী, তিনি আসলে প্রচুর ধনসম্পদের মালিক ছিলেন। ১৯৪৫ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে তিনি ভিয়েনার একজন দরিদ্র শিল্পী ছিলেন, কিন্তু নাৎসি শাসনামলে তিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেন।

হিটলারের সম্পত্তির প্রধান উৎস ছিল তার লেখা বই "মাইন কাম্পফ"। শুরুতে এই বইটি তেমন বিক্রি না হলেও, হিটলার জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে এর বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে এটি স্কুলের পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নবদম্পতিদের বিয়ের উপহার হিসেবেও দেওয়া হতো। শুধু ১৯৩৩ সালেই এর ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়। মিউনিখ আর্কাইভের নথি অনুযায়ী, হিটলার তার বই থেকে জার্মান মুদ্রায় ১.২৩২ মিলিয়ন মার্ক অর্জন করেন, যখন একজন সাধারণ শিক্ষকের বার্ষিক আয় ছিল মাত্র কয়েক হাজার মার্ক।

এত আয় করা সত্ত্বেও, হিটলার কর দিতেন না। তার বই থেকে এত টাকা এসেছিল যে ৪ লাখ মার্ক কর ধার্য হয়েছিল, কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় পরে ঘোষণা করে হিটলার কর দেন না। বইটি ১৬টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছিল এবং সেখান থেকেও প্রচুর অর্থ আসছিল।

হিটলারের মৃত্যুর পর সবকিছু বদলে যায়। নাৎসিরা পরাজিত হয় এবং মিত্রশক্তি তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। তার উইল অনুযায়ী, সম্পত্তি দলের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও, দল ভেঙে যাওয়ায় এবং রাষ্ট্রও টিকে না থাকায় তার সম্পত্তি ব্যাভারিয়া রাজ্যের হাতে চলে যায়। ব্যাভারিয়ান সরকার তার পাহাড়ী বাড়ি বোমা মেরে ধ্বংস করে দেয়, যাতে এটি কোনো পর্যটন কেন্দ্র না হয়ে ওঠে। তার পুরনো অ্যাপার্টমেন্ট পুলিশ স্টেশন হয়ে যায়। এমনকি "মাইন কাম্পফ" বইয়ের কপিরাইটও ২০১৫ সালে, অর্থাৎ হিটলারের মৃত্যুর ৭০ বছর পর বাজেয়াপ্ত করা হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে