ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

শেয়ারবাজার উন্নয়নে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সিএসইর নতুন উদ্যোগ

২০২৬ আগস্ট ২০ ২৩:৪৩:৫৭
শেয়ারবাজার উন্নয়নে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সিএসইর নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সিএসই। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিএসইর এএম-পিএন্ডসিআর ও পিআরডি তানিয়া বেগম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেয়ারবাজার সম্পর্কে বাস্তব ও প্রায়োগিক ধারণা অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত সিএসইর কার্যালয়ে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিজনেস’ শীর্ষক শিক্ষা সফরে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই নিয়মিত এ ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সিএসই আমন্ত্রণ ও স্বাগত জানিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ, জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মর্তুজা আলম, ডিজিএম ও হেড অব ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট অ্যান্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স একেএম শাহরোজ আলম, এজিএম ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টমেন্ট মোহাম্মদ বারাকাত শফি, এসিসিএ এবং ব্যবস্থাপক, প্রোমোশন অ্যান্ড প্রি-লিস্টিং ডিপার্টমেন্ট মোহাম্মাদ হাবিব উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এম সাদেক আহমেদ। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী।

এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে শেয়ারবাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শেয়ারবাজারের কার্যক্রম, লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন। শেয়ারবাজারের সামগ্রিক কার্যক্রম বুঝতে হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সিএসই দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে একদিকে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, অন্যদিকে এ বাজার থেকে নতুন পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেয়ারবাজারের কার্যক্রম একটি কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। তাই এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মর্তুজা আলম বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই শেয়ারবাজারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা এবং সুযোগ থাকলে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বিনিয়োগকারী হিসেবেই নয়, শেয়ারবাজারে উদ্যোক্তা, পরামর্শক, প্রশিক্ষক, পরিকল্পনাকারী কিংবা অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে নতুন কিছু করার উদ্যম ও প্রচেষ্টা তাদের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী দিনের সফল নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব আজকের শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান শেয়ারবাজারের বিকাশে সিএসই সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ শিক্ষা সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

তিনি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সিএসইর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে চালু থাকা বিভিন্ন পণ্য এবং অদূর ভবিষ্যতে চালু হতে পারে এমন নতুন পণ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। পাশাপাশি আর্থিক পরিকল্পনা, ঝুঁকি এবং শেয়ারবাজার থেকে সম্ভাব্য রিটার্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

শেয়ারবাজারের সামগ্রিক কাঠামো ও ব্যবহারিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে এম সাদেক আহমেদ একটি উপস্থাপনা করেন। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, সিএসইর এ ধরনের অগ্রণী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের শেয়ারবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে