ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পতনের পর সামান্য উত্থান, হতাশ বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ আগস্ট ২০ ১৪:৩৩:৫৭
পতনের পর সামান্য উত্থান, হতাশ বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা ছয় কার্যদিবসের দরপতনের পর অবশেষে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি প্রধান সূচকের মধ্যে দুটি বেড়েছে। তবে দিনটিতে টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, টানা পতনের পর ডিএসইর প্রধান সূচকের যে পরিমাণ উত্থান হয়েছে, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। বরং বাজারের বর্তমান চিত্রকে অনেকটাই অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা। সাম্প্রতিক টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ মূলধন হারিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের সামান্য উত্থানে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রেখেছেন। এ কারণে সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, টানা পতনের পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল সূচকে অন্তত ৫০ পয়েন্টের বেশি উত্থান হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রধান সূচক বেড়েছে মাত্র ১৬ পয়েন্টের কিছু বেশি। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজার ঘুরে না দাঁড়ানোয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক কার্যদিবস যদি ধারাবাহিকভাবে সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনও বাড়ে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

তাদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে শেয়ারবাজারের লেনদেন ও সূচকের গতি স্বাভাবিক থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ দশমিক ০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, ডিএসইর অপর সূচক ডিএসইএস ৪ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১২৭টির কমেছে এবং ৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৬৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস বুধবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বৃহস্পতিবার শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতেও লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বৃহস্পতিবার সিএসইতে মোট ১৯৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৮৭টির দর কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৮৬ দশমিক ২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সিএএসপিআই সূচক ১৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে