ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

বাজার সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগ, কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৫:০৯:১৪
বাজার সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগ, কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দরপতন থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসেও পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে টানা পাঁচ কর্মদিবস ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে প্রায় ১৩০ পয়েন্ট। এদিন ডিএসইর সবকটি সূচক কমলেও টাকার অংকে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে দরপতনের কারণে দেশের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন কমিশনের প্রতি ক্ষোভও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে অনেক বিনিয়োগকারীর ধারণা, শেয়ারবাজার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশন যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারছে না।

বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন, বাজার ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না কেন? তাদের মতে, বিভিন্ন কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হলেও এর পেছনে কারা ভূমিকা রাখছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ব্যর্থতায় পরিণত করতে ফ্যাসিস্টদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগ থাকলেও তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

বিনিয়োগকারীদের ভাষ্য, শেয়ারবাজারে এক-দুই দিনের দরপতন মেনে নেওয়া গেলেও বর্তমান সরকারের সময়ে এভাবে টানা পতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে বর্তমান কমিশনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। কমিশন বিভিন্ন নির্দেশনা ও গেজেট প্রকাশ করছে, কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এর ফলেই বাজারের বর্তমান বেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নতুন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে বিনিয়োগকারীরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হতে পারেন।

বিনিয়োগকারীরা আরও বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। বরং অবিবেচনাপ্রসূত কিছু নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে এবং ধারাবাহিক দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে। এতে কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে শুধু নির্দেশনা জারি এবং গেজেট প্রকাশ করাই কমিশনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, নিয়মিত ও কার্যকরভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে এভাবে টানা দরপতনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, বাজারের উন্নতি না হলে বর্তমান কমিশনের পরিবর্তনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হবেন। কারণ, বাজার নিয়ন্ত্রণে কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া, নির্দেশনা জারি কিংবা গেজেট প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।

তাদের মতে, আগে বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি মনিটরিং করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজেদের মতো করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।

মঙ্গলবারের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসেও সূচকটি কমেছিল।

এদিন ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০ দশমিক ২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে।

মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৬৬টির দর কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দরপতনের মধ্যেও এদিন ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। দিন শেষে প্রায় ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার মোট ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১৩৪টির কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ১১১ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে