ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ছয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বদলে যেতে পারে নিয়ম

২০২৬ জুলাই ৩০ ১০:৩১:০৪
ছয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বদলে যেতে পারে নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি সাংবিধানিক বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এসব উদ্যোগ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। এই দুই বিষয়ে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা শেষে আপত্তির বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের সাংবিধানিক ক্ষমতা বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে কোনো দণ্ড মওকুফ বা হ্রাসের আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি এখন সংবিধান সংশোধন কমিটির পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে।

সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বিএনপির আপত্তির বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে জামায়াতের প্রতিনিধি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং এককেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রবণতা কমবে।

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিরোধী দলের সদস্য যুক্ত করে কমিটিকে ১৭ সদস্যে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে