ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৫:২৫:৫১
বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে যখন গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময় দলবদলের জোর গুঞ্জনের মধ্যেই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। তার এই মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা, ক্ষোভ ও বিতর্ক।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত তালিকায় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নজর কাড়ে।

জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেন এবং শেষ পর্যন্ত দলটির চূড়ান্ত মনোনয়ন পান।

ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় সামাজিকভাবেও তার একটি পরিচিতি রয়েছে। এই পরিচিতি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কি না—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের লোগো সংবলিত ফাইল হাতে দেখা যায়, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে থাকার প্রমাণস্বরূপ একটি বিজ্ঞপ্তিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাবউদ্দিন আজমের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন নেত্রীকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে অন্য দল থেকে আসা কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে পড়ে।” তারা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিতে তার পদে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলবদল ও কৌশলগত মনোনয়ন নতুন কিছু নয়। তবে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সক্রিয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার মতো ঘটনা সব সময়ই বিতর্ক সৃষ্টি করে। গোপালগঞ্জের এই ঘটনা তারই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে