ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে স্বল্প মূলধনীর শেয়ার

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৫:০৭:১০
বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে স্বল্প মূলধনীর শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে থাকা প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনী কোম্পানি মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে লভ্যাংশ ও স্থায়ী সম্পদ নিয়ে নিরীক্ষকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ বা 'এমফাসিস অব ম্যাটারস' উঠে আসায় নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনে উল্লেখিত বকেয়া ডিভিডেন্ড এবং স্থায়ী সম্পদের রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকার বিষয়ে কোম্পানিটির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে এই অনিয়ম ও গাফিলতির পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির পক্ষ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অস্পষ্ট তথ্য ও আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এবং নিরীক্ষক—উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করবে ডিএসই।

তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট সিকিউরিটিজ আইন বা প্রবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, তা নির্ধারণ করবে ডিএসই। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে এমডি, সিএফও, কোম্পানি সচিব এবং নিরীক্ষকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যাসহ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে হবে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, মোস্তফা মেটালের আর্থিক প্রতিবেদনের নোট ২০.০১-এ ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি ডিভিডেন্ড পেয়েবল বা বকেয়া দেখানো হয়েছে। তবে এর বিপরীতে ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৬ টাকা জমা রাখা হয়েছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের কোনো হালনাগাদ রেজিস্টার নেই এবং আলোচিত অর্থবছরে সম্পদের কোনো পুনর্মূল্যায়নও করা হয়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ বকেয়া ডিভিডেন্ড থাকার পরও তা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না রাখা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, লভ্যাংশ ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোম্পানিটি তাদের করপোরেট সুশাসন ও ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, ফিক্সড অ্যাসেট রেজিস্টার আপডেট না থাকা এবং সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন না করাকে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে। সম্পদের সঠিক হিসাব ও বাজারমূল্যের সঠিক তথ্য না থাকলে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক শক্তি বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে বিনিয়োগকারীরা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ক্ষতিকর।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে