ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

এসএমই থেকে মূল বোর্ডে উঠতে চায় মামুন অ্যাগ্রো

২০২৬ মার্চ ১৭ ২৩:১৯:২০
এসএমই থেকে মূল বোর্ডে উঠতে চায় মামুন অ্যাগ্রো

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এসএমই প্ল্যাটফর্ম থেকে মূল বোর্ডে স্থানান্তরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মামুন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটি সম্প্রতি ডিএসইর কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পালনের দাবি করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ ইমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিয়মমাফিক সব প্রস্তুতি শেষ করেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মূল বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে, যখন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রথম এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে জুনে আয়োজিত একটি বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা বিপুল উৎসাহে এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় দেন। ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোম্পানির জমা দেওয়া নথিপত্র এবং বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা নিবিড়ভাবে যাচাই করার পর বোর্ড সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এসএমই প্ল্যাটফর্মের যোগ্য বিনিয়োগকারী অফার (কিউআইও) নীতিমালা অনুযায়ী, মূল বোর্ডে যেতে হলে কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হওয়া বাধ্যতামূলক। মামুন অ্যাগ্রোর বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা হওয়ায় তারা এই শর্তটি অনায়াসেই পূরণ করেছে। এছাড়া অন্তত তিন বছর তালিকাভুক্ত থাকার শর্তটিও তাদের অনুকূলে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের মাধ্যমে তারা পুঁজিবাজারে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল।

কৃষি খাতের এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং উন্নত মানের বীজ উৎপাদন ও আমদানির সাথে জড়িত। ২০২৫ সালের জুন মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি বড় অংশই চলতি সম্পদ হিসেবে রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তাদের স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৩৬ কোটি টাকা এবং মোট দায় রয়েছে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মতো।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে মামুন অ্যাগ্রোর ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময়ে তাদের মোট আয় বেড়ে ৫৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকায়। বিশেষ করে বীজ বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা কোম্পানির আয়ের একটি প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে কীটনাশক বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

চলতি বছর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, যার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ শতাংশ হবে ক্যাশ এবং বাকি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। এছাড়া উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৫ শতাংশ অতিরিক্ত বোনাস শেয়ারের প্রস্তাব করা হলেও তা বিএসইসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে না পারায় ঘোষিত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ এখনও ঝুলে আছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর এবং পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি এজিএম করার পরিকল্পনা থাকলেও ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই নতুন তারিখ ঘোষণা করে দ্রুত এজিএম সম্পন্ন এবং লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে বলে আশা করছে মামুন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে