ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

কাগজে সম্পদ, বাস্তবে নেই—সোনালি আঁশে আর্থিক অনিয়মের চিত্র

২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:১৯:৪১
কাগজে সম্পদ, বাস্তবে নেই—সোনালি আঁশে আর্থিক অনিয়মের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সোনালি আঁশের আর্থিক বিবরণীতে বড় ধরনের অসঙ্গতির চিত্র উঠে এসেছে। কোম্পানির হিসাবপত্রে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেখানো হলেও তার উল্লেখযোগ্য অংশের বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া সম্পদ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আদায় না হওয়া পাওনার কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমনকি কোম্পানি থেকে পণ্য নেওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষের কিছু প্রতিষ্ঠানও অর্থ পরিশোধ করছে না।

কোম্পানিটির নিরীক্ষিকের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি কৃত্রিমভাবে সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর মাধ্যমে আর্থিক চিত্রকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। পরে এসব সম্পদ আদায়যোগ্য নয় বা অস্তিত্বহীন বলে দেখিয়ে লোকসান দেখানো হয়। মূলত কোম্পানি থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অনেক সময় এই ধরনের ভুয়া সম্পদ হিসাবপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে তারা মনে করেন।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনালি আঁশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি গ্রাহকদের কাছে ২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে আর্থিক হিসাবে দেখিয়ে আসছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাঁচামাল সরবরাহকারীকে ২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও নিরীক্ষক তার কোনো সত্যতা খুঁজে পাননি।

এছাড়া গ্রুপের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ২ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ কয়েক বছর ধরে অপরিশোধিত রয়েছে। অন্যদিকে একই গ্রুপের আরেকটি কোম্পানির কাছে সোনালি আঁশের পাওনা রয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা দীর্ঘ সময় ধরে আদায় না হয়ে পড়ে আছে। আবার এনআইপি কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করলেও তার সমর্থনে নিরীক্ষককে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দিতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোনালি আঁশ ১১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার কাঁচামাল কেনার তথ্য আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তবে নিরীক্ষা কার্যক্রমে এ বিপুল অঙ্কের ক্রয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্থিক বিবরণীর নোট-২.২১ অনুযায়ী, কোম্পানিতে একটি প্রভিডেন্ট ফান্ড রয়েছে এবং এটি ট্রাস্টিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানি ও কর্মচারীরা সমান ৮.৩৩ শতাংশ হারে এ ফান্ডে অর্থ জমা দেন। কিন্তু নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ১৫৭৭ জন কর্মীর জন্য বেসিক বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ হারে ফান্ড গঠন করা হয়নি।

এদিকে কোম্পানির হিসাবে ১ কোটি ৯ লাখ টাকার শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী এই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এমনকি এ তহবিল পরিচালনার জন্য কোম্পানিতে কোনো পৃথক বোর্ড, দলিল বা সুস্পষ্ট নীতিমালাও পাওয়া যায়নি।

কোম্পানির আর্থিক হিসাবে ২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মজুদ পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে নিরীক্ষক সরেজমিন যাচাইয়ে এ মজুদের সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারেননি। কারণ গুদামে পণ্যগুলো অগোছালো ও এলোমেলো অবস্থায় ছিল, ফলে প্রকৃত মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালি আঁশের পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩১.০২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮.৪৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬০.৫৫ শতাংশ।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে