ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

লোকসান ও ঋণের চাপে ঢাকা ডাইং, টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন

২০২৬ মার্চ ০৫ ২১:০০:৩৮
লোকসান ও ঋণের চাপে ঢাকা ডাইং, টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষক।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের লোকসান, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ এবং উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কোম্পানিটি ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বড় অঙ্কের রিটেইনড লস বা জমাকৃত লোকসানের মুখে পড়েছে, যা এর মূলধন কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের বড় অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধযোগ্য হয়ে গেছে অথবা শিগগিরই পরিশোধের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে কোম্পানির ওপর তারল্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এর পাশাপাশি কোম্পানির স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা ও সীমিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে কারখানার উল্লেখযোগ্য অংশ অলস পড়ে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এটিকে ‘গোয়িং কনসার্ন’ হিসেবে টিকে থাকার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে।

টেক্সটাইল খাতের এই কোম্পানিটি গত কয়েক বছর ধরে লোকসানের মধ্যে রয়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরের পর থেকে কোম্পানিটি কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। এর ফলে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শ্রেণি অবনমন হয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে।

শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে সাধারণত সেসব কোম্পানি রাখা হয়, যারা সময়মতো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয় অথবা বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করতে পারে না। এসব কোম্পানিকে সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলতি অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটি ৩৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে, যা এর আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের অবনতি নির্দেশ করে।

২০২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালে কোম্পানিটির টার্নওভার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে ৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটি ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান দেখিয়েছিল।

এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৭১ পয়সা, যা কোম্পানিটির আর্থিক অবনতির গভীরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে