ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ার স্থানান্তর ইস্যুতে কড়া ব্যবস্থা নিল বিএসইসি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৪৬:১৯
সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ার স্থানান্তর ইস্যুতে কড়া ব্যবস্থা নিল বিএসইসি

নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ২ কোটি ১৮ লাখ বন্ধকি শেয়ার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বিতর্কিত শেয়ার স্থানান্তরের সাথে সরাসরি জড়িত ডিএসই কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ফলে এবার সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছেই ব্যাখ্যা চাওয়া হলো।

বিতর্কের নেপথ্যে

পুরো ঘটনাটি সেন্ট্রাল ফার্মার দুই উদ্যোক্তা-পরিচালক—মনসুর আহমেদ এবং মোরশেদা আহমেদের শেয়ার স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে। মনসুর আহমেদের ১ কোটি ৫১ লাখ এবং মোরশেদা আহমেদের ৬৭ লাখ শেয়ার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টে স্থানান্তর করা হয়।

বিএসইসির অভিযোগ, কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে এবং এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ হয়নি। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার স্থানান্তরে কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকা উদ্যোক্তাদের শেয়ার সাধারণত হস্তান্তরযোগ্য নয়। এই নিয়মগুলো উপেক্ষা করেই ডিএসই এই স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেন্ট্রাল ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আহমেদ বিএসইসিতে করা এক আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, ডিএসই নিয়মবহির্ভূতভাবে এই শেয়ার স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে আইডিএলসির সাথে মার্জিন লোন চুক্তির অধীনে এই শেয়ারগুলো বন্ধক রাখা হয়েছিল। কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার পর শেয়ার হস্তান্তরের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা ডিএসই ও আইডিএলসি উভয়ই লঙ্ঘন করেছে।

মনসুর আহমেদ বলেন, আমি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিএসইসিতে আবেদন করেছি। আমি ন্যায়বিচার আশা করি। সন্তোষজনক সমাধান না পেলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব, কারণ এই ঘটনায় আমি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের চিফ অপারেটিং অফিসার আবুল আহসান আহমেদ জানিয়েছেন, কোম্পানিটি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরই স্থানান্তরের আবেদন করেছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারও দাবি করেছেন যে, আদালতের নির্দেশ এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে বিএসইসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার এভাবে স্থানান্তরের সুযোগ নেই এবং কমিশন নির্দেশিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্তও এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে যৌথভাবে মাত্র ৭.৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮৫.৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার ৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে