ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকছে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৫:৫৭:০৯
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহারটি ঘোষণা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং জুলাই সনদকে মূল ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যাশা ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি সহায়তা সহজলভ্য করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলটি।

ইশতেহারটি মোট পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত

প্রথম অধ্যায়ে থাকছে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো। এর মধ্যে রয়েছে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনে। এতে দারিদ্র্য নিরসন, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক কল্যাণ, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখানে ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, শিল্প ও সেবাখাত সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, উত্তরাঞ্চল, হাওড়-বাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও নগরায়ণ উন্নয়ন, আবাসন ও পর্যটন খাত সম্প্রসারণ।

পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়ন, ক্রীড়া অবকাঠামো, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নৈতিকতা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার রয়েছে এতে।

ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে—প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ।কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফসল বিপণন।দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও মা–শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।শিক্ষায় মিড-ডে মিল চালু, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, স্টার্টআপ সহায়তা ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।পরিবেশ রক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।ডিজিটাল অর্থনীতি জোরদারে পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব গঠন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ইশতেহার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; বরং এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। দলটি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়, মানবিকতা ও জনগণের অধিকারকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার অঙ্গীকার করেছে।

জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গেলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি—যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, “সবার আগে বাংলাদেশ।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে