ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আ.লীগের ভোটাররা এখন কাকে ভোট দেবে? জরিপে উঠে এল তথ্য!

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:৪৬:২৯
আ.লীগের ভোটাররা এখন কাকে ভোট দেবে? জরিপে উঠে এল তথ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের রাজনৈতিক মনোভাব ও ভোট দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (সিআরএফ) ও ‘বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ’। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক জরিপের ফল তুলে ধরা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রধান দুই বিরোধী দলের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে এবং ৩০ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ৬.৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্য কোনো দলকে এবং ২.৪ শতাংশ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

২০০৮ সালের পর যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন নতুন ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ৩৭.৪ শতাংশ নতুন ভোটার জামায়াতকে ভোট দিতে চান। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ এবং এনসিপিকে ১৭ শতাংশ ভোটার। এই শ্রেণির ১৮.৬ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

জরিপ বলছে, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী। তবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার ‘দুর্নীতি’র ইস্যুটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে বড় প্রভাবক হিসেবে দেখছেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৩.২ শতাংশ ভোটার দল ও প্রার্থী—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। ৩০.৪ শতাংশ শুধু দল এবং ৩০.২ শতাংশ শুধুমাত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষত, জনদরদি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে সক্ষম—এমন প্রার্থীদের প্রতি মানুষের ঝোঁক বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, "আওয়ামী লীগ যেহেতু নেই, তাদের ভোট কোন দিকে যাবে তা-ই এখন নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে ৮ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে যাবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের দিনের পরিস্থিতির ওপর।"

সিআরএফের সহসভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, "মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ আছে, কিন্তু একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগও কাজ করছে।"উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে