ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

লোকসান বাড়লেও আরএকে সিরামিকের ক্যাশ ডিভিডেন্ড

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২৩:১৫:১৯
লোকসান বাড়লেও আরএকে সিরামিকের ক্যাশ ডিভিডেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। কোম্পানিটি এ বছরে ৩৯.৫৯ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, আয় বেড়েছে ঠিকই, তবে ব্যয়চাপ সামলাতে না পারায় বছরের শেষটা হয়েছে হতাশাজনক।

পিএসআই তথ্য বলছে, আগের বছরের তুলনায় কোম্পানির রাজস্ব ১০.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৭.৩৩ কোটি টাকায়। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুন পর্যন্ত) গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ বিঘ্ন এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়াই লোকসানের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বিক্রয় বাড়লেও কোম্পানির মোট মুনাফার মার্জিনে বড় ধস নেমেছে। আগের বছরের ১৭.১৯ শতাংশ মার্জিন কমে ১৩.১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আরএকে সিরামিকস জানিয়েছে, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্থির খরচ সমন্বয় করা যায়নি। পাশাপাশি পুরনো মজুত পণ্যের অবলোপন এবং অতিরিক্ত প্রভিশন রাখার সিদ্ধান্তও মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালেও কোম্পানিটি ২.৭৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল, ফলে এটি টানা দ্বিতীয় বছরের লোকসান।

লোকসানের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭২.০৮ শতাংশ মালিক উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা এই ডিভিডেন্ড গ্রহণ করবেন না।

বাকি ২৭.৯২ শতাংশ শেয়ারের মালিক সাধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই লভ্যাংশ পাবেন। এর বিপরীতে মোট বিতরণযোগ্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১.৯৫ কোটি টাকা। ফলে লোকসান সত্ত্বেও বাজারে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

অন্যদিকে, অপারেটিং কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বকেয়া আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পাওনাদারদের সঙ্গে পরিশোধের সময়সীমা পুনর্গঠনের ফলে নগদ প্রবাহের উন্নতি হয়েছে। এর ফলে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো আগের বছরের ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকায় পৌঁছেছে।

ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আগামী ৩১ মার্চ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে