ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আগুনে পোড়া নোট নিয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

২০২৫ ডিসেম্বর ১৮ ১২:১১:৩৪
আগুনে পোড়া নোট নিয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়ে যাওয়া নোট আর কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে বদলানো যাবে না। এ ধরনের নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত অফিসে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে টাকা ফেরত পেতে সময় লাগবে সর্বনিম্ন আট সপ্তাহ। একই সঙ্গে ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নোট উপস্থাপন করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা।

নোট বিনিময় সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রবিধানে প্রচলিত নোটকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া-ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। এর মধ্যে ছেঁড়া-ফাটা, ক্ষতিগ্রস্ত ও অপ্রচলনযোগ্য নোট নিয়মিতভাবে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা থেকেই বিনিময় করতে হবে।

এ ধরনের নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে শাখা থেকেই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হবে। শর্ত অনুযায়ী, নোটের মোট আয়তনের অন্তত ৯০ শতাংশ অক্ষত থাকতে হবে এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য হতে হবে। নোট যদি দুই টুকরা হয়, তাহলে উভয় অংশ একই নোটের হতে হবে এবং সঠিকভাবে জোড়া লাগানো থাকতে হবে।

তবে একাধিক নোটের অংশ যুক্ত করে তৈরি তথাকথিত ‘বিল্ট-আপ’ নোট কিংবা জাল নোট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এমন অপরাধ গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হবে। জাল নোট প্রতিরোধ আইন, ২০২২ অনুযায়ী, এতে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে, আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে বিনিময়ের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা এসব নোট বদলাতে বা এর বিপরীতে অর্থ প্রদান করতে পারবে না। গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকটস্থ অফিসের হেল্প ডেস্ক বা দাবি শাখায় নির্ধারিত আবেদন জমা দিতে হবে। যাচাই শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করবে এবং আবেদন গ্রহণের সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে অর্থ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। অনুমোদন মিললে অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে।

দাবিযোগ্য নোটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এসব নোট শাখা পর্যায়ে সরাসরি নগদায়ন করা যাবে না। গ্রাহককে আবেদন ফরম পূরণ করে পরিচয়পত্রসহ জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা আবেদন গ্রহণ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু অফিসে পাঠাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ৯ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ২০১২ সালের পুরোনো নোট রিফান্ড সংক্রান্ত প্রবিধান বাতিল হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নোট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের অযথা ভোগান্তি কমানোই নতুন নির্দেশনার প্রধান উদ্দেশ্য।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে