ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সোনার পর রুপার দামেও রেকর্ড উত্থান

২০২৫ ডিসেম্বর ১৬ ১৭:১১:১৮
সোনার পর রুপার দামেও রেকর্ড উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর আগেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম রেকর্ড স্পর্শ করে। বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি শিল্পে ব্যাপক চাহিদাও রুপার দামের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রাখছে।

৯ ডিসেম্বর স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৬০ ডলারে উঠে যায়। স্পট মার্কেট এমন একটি বাজারব্যবস্থা, যেখানে তাৎক্ষণিক ডেলিভারির ভিত্তিতে মূল্যবান ধাতুর কেনাবেচা সম্পন্ন হয়।

রুপার পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে সোনার দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। চলতি বছরের শুরুতেই সোনা রেকর্ড দামে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত সুদহার কমলে এবং মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ বাড়ান। এই প্রেক্ষাপটে ১০ ডিসেম্বর ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিসুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি-এর শিক্ষক ইয়েও হি চুয়া জানান, সুদহার হ্রাস পেলে ব্যাংকে রাখা অর্থ বা স্বল্পমেয়াদি বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুবিধা কমে যায়। ফলে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা রুপার মতো সম্পদ কিনে রাখেন, যা নিরাপদ সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রুপার দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

গত কয়েক মাসে সোনার দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার ওংয়ের মতে, সোনার এই মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব রুপার বাজারেও পড়েছে। তুলনামূলক কম দামে বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে রুপার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

চলতি বছরে সোনার দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সোনা ক্রয়। একই সঙ্গে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপার দাম বাড়ার পেছনে শিল্প খাতের চাহিদাও বড় কারণ। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কসমস মারিনাকিস জানান, রুপা এখন শুধু বিনিয়োগযোগ্য ধাতু নয়, এটি শিল্পে অপরিহার্য কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যুৎ পরিবহণে রুপা সোনা ও তামার চেয়েও কার্যকর।

এই কারণে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সৌর প্যানেল উৎপাদনে রুপার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হলে ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতে রুপার চাহিদা আরও বাড়বে। তবে রুপার সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো কঠিন, কারণ এটি মূলত সিসা, তামা ও সোনা খনির উপজাত হিসেবেই আহরণ করা হয়।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রুপার ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে দামের চাপ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য শুল্ক এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে রুপা মজুত করা হচ্ছে, ফলে বৈশ্বিক বাজারে সংকট দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট রুপার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করে।

কসমস মারিনাকিসের মতে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রুপার সরবরাহ নিশ্চিত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি দামে পড়ছে। তাঁর ধারণা, আগামী কয়েক মাসেও রুপার দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে