ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

বে লিজিংয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আভাস

২০২৫ আগস্ট ৩১ ০৭:১২:২৮
বে লিজিংয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে (বিএলআই) নতুন নেতৃত্বের ইঙ্গিত মিলছে। ব্যবসায়ী রায়হান কবির কোম্পানিটির আরও শেয়ার কিনে নিজের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

গত ২৮ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, কোম্পানির অতিরিক্ত ১৫ লাখ শেয়ার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ঘোষণার পরদিন শেয়ারের দাম ৮.১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ টাকায়।

বর্তমানে রায়হান কবির বে লিজিংয়ের একজন স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার। তিনি ১৩ লাখ ২৬ হাজার শেয়ারের মালিক। নতুন করে শেয়ার কেনার পর তার মোট শেয়ার হবে ২৮ লাখ ২৬ হাজার, যা কোম্পানির ২ শতাংশ মালিকানার সমান। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে হলে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি কোম্পানির পরিচালক এবং সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন রায়হান কবিরের মা সুরাইয়া বেগমের চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছে। যদিও তিনি এখনো ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ারের মালিক, তবে আর পরিচালক পদে নেই। তার বাবা আলমগীর কবির একসময় ১,৮৮৪টি শেয়ারের মালিক ছিলেন, যা পরবর্তীতে বিক্রি করেন। বর্তমানে কোম্পানিতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য, যেখানে একজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এবং দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক দায়িত্ব পালন করছেন।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, রায়হান কবির ইচ্ছাকৃতভাবে বোর্ড মিটিং ও চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন, যাতে নিজের নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি স্পন্সর হিসেবে আমার শেয়ারের পরিমাণ বাড়াচ্ছি। এখনই পরিচালক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে বর্তমান বোর্ড যদি আমন্ত্রণ জানায়, তখন বিষয়টি বিবেচনা করব।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, রায়হান কবিরের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেন এবং একই সময়ে ব্যাংকের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার কেনেন। ওই সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তার বাবা আলমগীর কবির। পরবর্তীতে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক হন, যদিও তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত হয়েছিল। তিনি ২০০৪ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত অডিট কমিটিতে দায়িত্বে ছিলেন, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয়।

এদিকে আলমগীর কবিরও নানা বিতর্কে জড়িত। গত নভেম্বরে বে লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেনে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগে তাকে ১২ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে দুর্নীতির মামলায় তার বিদেশ ভ্রমণে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি দুদক বিডি থাই ফুড-এর প্রি-আইপিও শেয়ার কেনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।

অন্যদিকে, বে লিজিং নিজেই মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ৪৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪২৯ শতাংশ বেশি। ঋণ খেলাপির পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এবং ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়ায় নিট সুদ আয়ে বড় ধরনের পতন ঘটে। এর ফলে পরিচালনা পর্ষদ গত বছর কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। ২০২৪ সালের শেষে কোম্পানির শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও লোকসান দাঁড়িয়েছে আরও ৪২ কোটি টাকা।

মিজান

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে