গুম তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে র্যাবের গোপন বন্দিশালার পর্দা ফাঁস
নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে পরিচালিত দুটি গোপন বন্দিশালা—সাংকেতিক নাম ‘হাসপাতাল’ ও ‘ক্লিনিক’—এর বিস্তারিত তথ্য গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই বন্দিশালাগুলো পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিল র্যাবের গোয়েন্দা শাখা। ৪ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: আ স্ট্রাকচারাল ডায়াগনোসিস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
গোপন বন্দিশালার অবস্থান ও প্রকৃতি
'হাসপাতাল': উত্তরার র্যাব-১ কার্যালয়ের চত্বরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাটি র্যাব সদর দপ্তরের অধীনে, তবে সুনির্দিষ্টভাবে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা দ্বারা পরিচালিত হতো। এটি তিনটি আলাদা অংশে বিভক্ত ছিল: প্রশাসনিক এলাকা, একটি বৃহত্তর বন্দিশালা এবং একটি নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদের ছোট এলাকা।
'ক্লিনিক' (গ্লাস হাউস): র্যাব সদর দপ্তরের চত্বরেই কাচঘেরা কাঠামো নিয়ে পরিচালিত হতো এই বন্দিশালাটি, যা 'গ্লাস হাউস' নামেও পরিচিত ছিল। এর তৃতীয় তলায় একসময় ছয়টি ছোট বন্দিশালা ছিল।
গুমের আলামত ধ্বংস ও ব্যারিস্টার আরমানের সাক্ষ্য
অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে, যা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করছে। প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কীভাবে গুমের আলামতগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ডিজিএফআই পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) সহ বিভিন্ন সংস্থায় ৫ আগস্টের পর গুমের আলামত ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। 'হাসপাতাল' ও 'ক্লিনিক' নামে র্যাব পরিচালিত দুটি গোপন বন্দিশালার অনেক আলামতও সরকার পতনের পর ধ্বংস করা হয়, যা অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোই করেছে।
গোপন বন্দিশালা 'হাসপাতাল'-এর খোঁজ পাওয়া যায় মূলত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের (আরমান) বর্ণনা অনুযায়ী। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট মিরপুর ডিওএইচএস থেকে তাকে গুম করা হয়েছিল এবং গত ৬ আগস্ট তিনি পরিবারের কাছে ফেরেন। তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, টিএফআই সেলের নির্যাতন এলাকা এবং পরে একটি গোপন কক্ষের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে ডিজিএফআইয়ের 'আয়নাঘরে' আটক রাখার কথা শোনা গেলেও, তার বর্ণনার সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের বন্দিশালার বৈশিষ্ট্যগুলোর অসামঞ্জস্যতা ছিল। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ওই গোপন কক্ষের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়।
প্রমাণ ধ্বংস, হুমকি ও তদন্তে বাধা
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, টিএফআই সেলের গোপন কক্ষ আবিষ্কারের পর কমিশন নিশ্চিত হয় যে, ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই এই স্থানে প্রমাণ ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে তা চলমান ছিল। র্যাবের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও আলামত ধ্বংস বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের সদস্যদের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তিগতভাবে, মুঠোফোনের মাধ্যমে এবং অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এসব হুমকি দেওয়া হয়। কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট বা চরমপন্থী হিসেবে অপপ্রচারও চালানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ কর্মকর্তাই অভিন্ন ভাষায় দায় অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তারা উক্ত ভবনটির অস্তিত্ব জানতেন না বা সেখানে বন্দীর উপস্থিতির বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে কমিশনের কাছে প্রামাণ্য উপকরণ রয়েছে যা নির্দেশ করে র্যাবের মহাপরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপাপরিচালক স্তরেও টিএফআই সেলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।
বিচার সম্ভব: কমিশনের আশাবাদ
কমিশন জানিয়েছে, অনুসন্ধানে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে গুমের পুরো সময়ে র্যাব একটি সুসংহত ও কেন্দ্রীভূত নির্দেশনা কাঠামো বজায় রেখেছে, যেখানে ক্ষুদ্রতম সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এটি ইঙ্গিত করে যে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ছিল।
তদন্ত কমিশন অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা এমন কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাক্ষ্যও পেয়েছে, যারা গুমের ঘটনার সময়ে গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেলে কর্মরত ছিলেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির আটক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। কমিশন যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠা করেছে যে টিএফআই সেল বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল—এই দাবি স্পষ্টতই অসত্য। সুতরাং, উক্ত ভবনে সংঘটিত দীর্ঘমেয়াদী গুম এবং পদ্ধতিগত অমানবিক নির্যাতনের জন্য এসব কর্মকর্তারা দায়ী।
কমিশন মনে করে, ব্যারিস্টার আরমানের মতো মামলায় দায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে আঘাত হানা সম্ভব। কমিশন বলছে, এই ঘটনা প্রমাণ করে, বিচার সম্ভব এবং ক্ষমতাবানেরাও বিচারের আওতার বাইরে নন।
মারুফ/
পাঠকের মতামত:
- ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!
- ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ
- ৫ ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, রহস্য বাড়াচ্ছে অটোরিকশা
- মোদিকে ৩ প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ধ্রুব রাঠি
- সোনা কিনতে যাওয়ার আগে জেনে নিন শুক্রবারের দাম
- সুদমুক্ত ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
- বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য ডলার কেনার সীমা বাড়ল, জানুন নতুন নিয়ম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগে প্রস্তুতি নিন, ৪১ এলাকার নাম জেনে নিন
- ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছিল সরকার, এবার নতুন হিসাব
- ডরিন পাওয়ারের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- চট্টগ্রাম টার্মিনাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের আলোচনা
- অবৈধ ওয়েবসাইটে ট্রেনের টিকিট, রেলওয়ের তিন পদক্ষেপ
- প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর খরচ বাড়ল, সামনে বড় ঝুঁকি
- আবরার হত্যা মামলায় আইনজীবী, শিশির মনিরকে ঘিরে বিতর্ক
- ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানালো অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ
- বিয়ের ১১ দিন পর সন্তান, এরপরই চাঞ্চল্যকর ঘটনা
- গ্রাহক চাইলেই টাকা দিতে হবে, শেয়ারবাজারের দুর্বল ব্যাংককে গভর্নরের নির্দেশ
- বিএসইসিতে বড় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পরিবর্তন
- সাকিবের রহস্যময় বার্তা: ‘সমাপ্তি নাকি নতুন শুরু?’
- ক্লোজড-এন্ড থেকে ওপেন-এন্ডে পরিণত হচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ড
- দেশে বিক্রি কমলেও রপ্তানিতে বাজিমাত তালিকাভুক্ত কোম্পানির
- বোর্ড পরিবর্তনের খবরে দুই কোম্পানির শেয়ারে বড় ঝড়
- অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- দীর্ঘ ৭ মাস পর উৎপাদন শুরু, মাত্র দুই দিনেই আবারও বন্ধ
- সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, আগে দরপতন ঠেকানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের
- বাংলাদেশে নতুন সেবা চালু, উচ্ছ্বাস প্রকাশ ইলন মাস্কের
- ৮ অক্টোবর ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ৮ অক্টোবর লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ অক্টোবর দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ অক্টোবর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জাপানে পরপর দুই ভূমিকম্প, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধান
- যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা বাংলাদেশের
- বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হলেন শেখ মাহবুবুর রহমান
- বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যে চিত্র, সতর্ক সবাই
- প্রণোদনা ঋণে নতুন জটিলতা, শর্ত শিথিলের দাবি ব্যবসায়ীদের
- বিএনপি সভাপতির সারের ডিলারের ‘গোপন তালিকা’ ফাঁস
- উপদেষ্টা হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা, পাবেন মন্ত্রীর মর্যাদা
- কারখানা বন্ধ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ইন্দো-বাংলার ব্যাখ্যা
- কলকাতায় ৮৭, ঢাকায় ১৫৩ টাকা: এলপিজি নিয়ে বড় প্রশ্ন
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম প্রকাশ
- প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে নিতে দীনেশ ত্রিবেদীর 'দৌড়ঝাঁপ'
- দাবি নিষ্পত্তিতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ পপুলার লাইফের
- আবরার হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় কবে, জানা গেল নতুন হিসাব
- আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে ফিরলেন ধ্রুব রাঠি
- হাসিনা ফিরলেই বদলে যেতে পারে ৫ হিসাব!
- বিশ্বকাপজয়ী মেসি এবার প্রেসিডেন্ট!
- রিজার্ভ সামান্য কমলেও রেমিট্যান্সে বড় সুখবর
- চীন-ভারতের পর বাংলাদেশেও কমল পোশাক রপ্তানি, নতুন পরিসংখ্যান
- ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ
- নভেম্বরে নতুন সরকারি ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি
- ইরান থেকে শিখে আমেরিকাকে পাল্টা চাল বাংলাদেশের
- ধারাবাহিক আর্থিক উন্নতির পর ডিভিডেন্ড জোয়ারে ভাসাতে পারে যে কোম্পানি
- ক্রসফায়ারের বদলে এবার নতুন পথে পুলিশ
- ৪ অক্টোবর থেকে ১৯ ব্যাংকের যেসব সেবা বন্ধ
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত, সোনার দামে বড় স্বস্তি ক্রেতাদের
- অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- বিএসইসির নির্দেশে বেক্সিমকো ও শাইনপুকুর সিরামিকসে নতুন অধ্যায়!
- চলতি সপ্তাহে আসছে ৭ কোম্পানির ডিভিডেন্ড
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ৪ কোম্পানি
- ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- উৎপাদন বন্ধ ৩৭ কোম্পানির, শেয়ারবাজারে বাড়ছে বিনিয়োগকারীর শঙ্কা
- চেক ছাড়া ক্যাশ টাকা তোলার সুযোগ দিচ্ছে শেয়ারবাজারের ব্যাংক
- স্বর্ণের দাম নিয়ে নতুন খবর, আজকের বাজারদর একনজরে
- ১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি
- সপ্তাহজুড়ে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর
- ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ
- ৫ ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, রহস্য বাড়াচ্ছে অটোরিকশা
- বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য ডলার কেনার সীমা বাড়ল, জানুন নতুন নিয়ম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগে প্রস্তুতি নিন, ৪১ এলাকার নাম জেনে নিন













