ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

কলরেট, ডাটা ও নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

২০২৬ আগস্ট ২০ ০৯:৫৮:১৫
কলরেট, ডাটা ও নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্য বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত এক উন্মুক্ত গণশুনানিতে গ্রাহকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

গণশুনানিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে জামালপুরের বাসিন্দা রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার দাবি জানান।

জবাবে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ট্যারিফ ২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে সর্বনিম্ন সীমা ৪৫ পয়সা থেকে আরও কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

টেলিটকের সেবা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ জানান, হাওর, পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়াতে টেলিটক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দিনব্যাপী গণশুনানিতে মোবাইল সেবার মান, নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, কলড্রপ, ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ, ডাটার মেয়াদ শেষে ক্যারি-ফরওয়ার্ড সুবিধা, সিম নিবন্ধন এবং এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা নিয়ে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন গ্রাহকেরা।

মাস্কিং ছাড়া আসা স্প্যাম মেসেজ এবং আন্তর্জাতিক ওটিপি (OTP) পেতে দেরি হওয়ার বিষয়ে বিটিআরসি জানায়, জালিয়াতি ঠেকাতে দেশের সব ধরনের বার্তা প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের কারিগরি জটিলতার কারণে কখনো কখনো ওটিপি পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজের জটিল শর্ত নিয়েও গ্রাহকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অপারেটরদের বিজ্ঞাপন ও মেসেজে প্যাকেজের সব শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিটিআরসি।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিটিআরসি জানায়, টাওয়ারগুলোর পাওয়ার ব্যাকআপ পর্যবেক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর কার্যকারিতা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানি আয়োজন করা হবে।

এর মাধ্যমে গ্রাহক ও নাগরিকেরা সরাসরি তাঁদের অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত জানানোর সুযোগ পাবেন। শুনানিতে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশ নিতে অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী ছিলেন।

গ্রাহকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে কলরেট কমানো, ইন্টারনেট ডাটার অবশিষ্ট মেয়াদ পরবর্তী প্যাকেজে যোগ করার সুবিধা এবং নেটওয়ার্ক সেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে