ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি দেওয়া যায় না? বোর্ডের নিয়ম জানুন

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১১:১৮:৪১
টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি দেওয়া যায় না? বোর্ডের নিয়ম জানুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর একটি স্কুল থেকে অংশ নেওয়া ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওই স্কুলের দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ৪৮৫ জন। এর মধ্যে টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ১০৩ জনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে নিয়মবহির্ভূত কোনো কৌশল নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে স্কুলটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য জানতে গত ১৬ আগস্ট স্কুলটিকে নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রশ্ন উঠেছে, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার সুযোগ একটি স্কুলের রয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম কী?

গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে শতভাগ পাস ও শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার হার বাড়ানো এবং নিজেদের ভালো ফলের রেকর্ড ধরে রাখার জন্য স্কুলটি কিছু শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি।

বাংলাদেশে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনার মান যাচাইয়ের জন্য বিদ্যালয়ে টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষা নেওয়া হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বোর্ড অনুমোদিত কোনো বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রম শেষ করে ওই বোর্ডে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

তবে একই নীতিমালায় বলা হয়েছে, বোর্ডের বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী এবং নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবে।অর্থাৎ, নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অন্যতম প্রধান শর্ত।

২০১৮ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জারি করা একটি বিশেষ আদেশে এসএসসি ও এইচএসসি নির্বাচনি পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনি পরীক্ষার উত্তরপত্র বা খাতাও ফল প্রকাশের পর অন্তত ছয় মাস বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় পাস করতে হবে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জিপিএ-৫ পাওয়ার সম্ভাবনা কম এমন শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল দেখিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বিষয়টিকে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা বোর্ড কোনো র‍্যাংকিং করে না। তবে নিজেদের সেরা হিসেবে তুলে ধরতে কিছু প্রতিষ্ঠান এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এ নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাদের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এখন শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত ও স্কুলের জবাবের পরই ১০৩ শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে