ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

যে খাসির জন্য বিয়ে ভেঙেছিল, এবার সেই খাসি দিয়েই বিয়ে করলেন জুনায়েদ

২০২৬ আগস্ট ১৯ ০৯:৩১:৫৯
যে খাসির জন্য বিয়ে ভেঙেছিল, এবার সেই খাসি দিয়েই বিয়ে করলেন জুনায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের খাবারের ঐতিহ্যবাহী ‘খদর’-এ খাসির মাংস না থাকায় বিয়ের আসর থেকে উঠে গিয়ে আলোচনায় আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার অবশেষে নতুন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ গ্রামের একটি বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবার খদরে প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আস্ত খাসি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নববধূর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার রুটি নূরপুর গ্রামে। কনের বাবা প্রবাসে থাকায় কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের কনের মামা তাজু সরকারের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে খদরে খাসির মাংস না থাকাকে কেন্দ্র করে জুনায়েদের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই দিন বর কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।

পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়ানোর পর বরপক্ষের জন্য বিয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। তবে খদরে খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসির ব্যবস্থা না করলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন জুনায়েদ। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান তিনি।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, “আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।”

তবে ঘটনার একদিন পরই অন্যত্র জুনায়েদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে