ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

মুনাফায় ফিরলেও আইসিবির সাত মিউচুয়াল ফান্ডে ডিভিডেন্ড নেই

২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৪৯:৪৪
মুনাফায় ফিরলেও আইসিবির সাত মিউচুয়াল ফান্ডে ডিভিডেন্ড নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুনাফায় ঘুরে দাঁড়ালেও আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইসিবি এমসিএল) ব্যবস্থাপনায় থাকা সাতটি মিউচুয়াল ফান্ড টানা তৃতীয় বছরের মতো কোনো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না। আগের বছরের লোকসানের কারণে সঞ্চিত আয় নেতিবাচক থাকায় চলতি অর্থবছরে মুনাফা বাড়লেও এসব ফান্ডের ইউনিটহোল্ডাররা ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার অনুষ্ঠিত ট্রাস্টি কমিটির সভায় সাতটি ফান্ডের ডিভিডেন্ড শূন্য ঘোষণা করা হয়। ফলে চলতি বছরও এসব ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের কোনো নগদ ডিভিডেন্ড দেওয়া হচ্ছে না।

আইসিবির কর্মকর্তারা জানান, আগের বছরগুলোতে শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে ফান্ডগুলোর আয় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি ফান্ডে লোকসান জমতে থাকে। তবে আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড চলতি অর্থবছরে মুনাফা করার পাশাপাশি সঞ্চিত আয় ইতিবাচক রাখতে সক্ষম হওয়ায় ৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অন্যান্য ফান্ডের আগের বছরের লোকসান সমন্বয়ের পরও সঞ্চিত আয় নেতিবাচক রয়েছে। ফলে FY26-এ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বিধি অনুযায়ী ডিভিডেন্ড দেওয়ার মতো অবস্থানে যেতে পারেনি ফান্ডগুলো।

তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ছিল। অর্থবছরের শেষ দিকে বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা দিলেও ফান্ডগুলোর মূলধনী মুনাফার বড় একটি অংশ এখনো অবাস্তবায়িত। ফলে এসব মুনাফা পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ তৈরি করতে পারেনি।

আইসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আগের লোকসানের কারণে ফান্ডগুলোর সঞ্চিত আয় ঋণাত্মক ছিল। চলতি বছরের ভালো ফলাফল সমন্বয় করার পরও তাই ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়নি।

এদিকে সাতটি ফান্ডের ডিভিডেন্ড শূন্য ঘোষণার পর বাজারে তাদের ইউনিটে বড় ধরনের বিক্রির চাপ দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর এসব ফান্ডের ইউনিটের দাম প্রায় ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অর্থবছরভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১০টি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আটটির আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করেছে। আইসিবির তথ্য বলছে, ২০২৬ অর্থবছরে সাতটি ফান্ড লোকসানে থাকলেও ২০২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ ফান্ডই উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর মাত্র একটি ফান্ড মুনাফা করেছিল।

শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পুনরুদ্ধারই ফান্ডগুলোর আয়ের এই ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ। ২০২৬ অর্থবছরে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। বাজার সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার মধ্যে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম শক্তিশালী বার্ষিক পারফরম্যান্স।

অর্থবছরজুড়ে ডিএসইএক্স ৯২৪ পয়েন্ট বাড়েছে। একই সময়ে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বা ৩৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়। আর দেশের মোট বাজার মূলধন ৩৬ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বর্তমানে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মোট ১৫টি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ১০টি ক্লোজড-এন্ড এবং পাঁচটি ওপেন-এন্ড ফান্ড। অনুমোদিত আটটি ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের সম্মিলিত আকার প্রায় ৮০৩ কোটি টাকা।

ফান্ডগুলোর আয় কেমন ছিল

৫০ কোটি টাকা আকারের আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ২০২৬ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৭ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১৫ পয়সা।

৭৫ কোটি টাকা আকারের আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ২০২৬ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১২ পয়সা মুনাফা করেছে। ২০২৬ অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ২৩ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা মুনাফা করেছে। অন্যদিকে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড যথাক্রমে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৬৪ পয়সা ও ১ টাকা ৪০ পয়সা মুনাফা করেছে।

এ ছাড়া আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১ ইউনিটপ্রতি ৯৬ পয়সা এবং আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ১ টাকা ১২ পয়সা মুনাফা করেছে।

১০০ কোটি টাকা আকারের আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ২০২৬ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৫ পয়সা মুনাফা করেছে, যা ২০২৬ অর্থবছরের ৩৬ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। ইতিবাচক সঞ্চিত আয়ের কারণে ফান্ডটি ৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে