ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ-লেনদেন খতিয়ে দেখছে বিএসইসি

২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৯:২৯
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ-লেনদেন খতিয়ে দেখছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন, স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ন্ত্রকীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসইর কাছে বিপুলসংখ্যক নথি, তথ্য ও লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। চিঠিতে আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে চাওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট জারি করা অনুসন্ধান আদেশের মাধ্যমে ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রকীয় দায়িত্ব পালনে পরিপালন, ব্যবসা ও শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনেই ডিএসইর কাছে এসব তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে শেয়ারহোল্ডার সদস্য ১৪১-এর উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডিএসইর লিখিত জবাব চেয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের ডিএসইর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যবস্থাপনা চিঠি এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জানুয়ারি ২০২০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিএসইর অনুষ্ঠিত সব পরিচালনা পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছর আগের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণও জমা দিতে হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর

ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে বিএসইসি। এ কারণে জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং তার ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সব নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ও পরামর্শক নিয়োগের নথিও দিতে বলা হয়েছে।

এসব নথির মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রাপ্ত আবেদনপত্র, সাক্ষাৎকার বোর্ডের গঠন, মূল্যায়ন বা মেধা তালিকা এবং নিয়োগ অনুমোদনের নোট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে গত তিন বছরে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের করপোরেট সুশাসন, নিয়োগ এবং মানবসম্পদসংক্রান্ত প্রতিবেদনও চেয়েছে কমিশন।

শীর্ষ কর্মকর্তা ও সার্ভেইলেন্স কর্মকর্তাদের লেনদেনের তথ্য

অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সার্ভেইলেন্স বিভাগের কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে লেনদেন। এ জন্য ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং তাদের নামে থাকা বিও হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএসইসি।

ডিএসইর কাছে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাবের তথ্যও জমা দিতে বলা হয়েছে।

একইভাবে ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিএসইর সার্ভেইলেন্স বিভাগের সব কর্মকর্তা, ক্যাজুয়াল কর্মী ও সহায়ক কর্মীর নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ, চাকরির মেয়াদ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, টিআইএন এবং বিও হিসাবসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে কমিশন।

এসব কর্মকর্তার গত দুই বছরে দাখিল করা শেয়ার বা সিকিউরিটিজ ধারণ ও লেনদেনসংক্রান্ত ঘোষণার অনুলিপিও দিতে বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়ে থাকলে তার রেকর্ড এবং কর্মকর্তাদের স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ডিএসইর আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত নীতি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেনসংক্রান্ত নীতি এবং কর্মকর্তাদের ঘোষিত স্বার্থের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনার নেওয়া সিদ্ধান্তের রেকর্ড চেয়েছে বিএসইসি।

বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমও অনুসন্ধানের আওতায়

চিঠিতে ডিএসইর আরএসি, আরএডি এবং মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটির কার্যপরিধি, বর্তমান সদস্যদের তালিকা এবং জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এসব কমিটির অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক পদ, পরামর্শক এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগসংক্রান্ত নথি দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ডিএসইর অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা নীতি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারনামা, হুইসেলব্লোয়ার বা অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতি এবং গত দুই বছরে পাওয়া অভিযোগের তথ্যও চেয়েছে কমিশন।

নথি সংরক্ষণ ও গোপনীয়তার নির্দেশ

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সব নথি ও ই-মেইল যোগাযোগ সংরক্ষণের জন্য ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব রেকর্ড পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা ওভাররাইট না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান এবং তথ্য চাওয়ার পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি

বিএসইসির গঠিত অনুসন্ধান কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা এএসএম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

বিএসইসির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে ডিএসইর কাছে অতিরিক্ত কোনো নথি বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে