ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে কে এগিয়ে, ফল ঘিরে চরম উত্তেজনা

২০২৬ মে ০১ ০৭:৪১:৫৬
পশ্চিমবঙ্গে কে এগিয়ে, ফল ঘিরে চরম উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা চলছে। আগামী ৪ মে জানা যাবে, রাজ্যের শাসনভার শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে।

ফল ঘোষণার আগে এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের পূর্বাভাস প্রকাশ করায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

তবে এসব সমীক্ষা নিয়ে গণমাধ্যম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা তথ্য প্রকাশ করলেও এর নির্ভুলতার দায় নিচ্ছে না। কারণ সরাসরি মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেই পদ্ধতির ঘাটতি রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে।

প্রকাশিত সমীক্ষাগুলোতে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে। কোথাও বিজেপি এগিয়ে, আবার কোথাও তৃণমূলের সম্ভাবনা বেশি বলে দেখানো হচ্ছে।

ভোটের হার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির ভোট শেয়ার ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভোট ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। সংখ্যার হিসেবে বিজেপি সামান্য এগিয়ে থাকলেও বাস্তব চিত্র অনেক বেশি জটিল, যেখানে তৃণমূলের ফিরে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গের অতীত নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক্সিট পোল অনেক সময় বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে মিল খায় না। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটলেও অধিকাংশ সমীক্ষা সেই বড় পরিবর্তন ধরতে পারেনি।

সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনসহ জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জনঅসন্তোষ তখন ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখনও অনেকেই এক্সিট পোল নিয়ে সন্দিহান।

পরবর্তী নির্বাচনগুলো—২০১৬, ২০২১ কিংবা লোকসভা ভোটেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সমীক্ষার ফল অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি, যার পেছনে মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহের ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বর্তমানে মোবাইল প্রযুক্তি, এআই ও সীমিত নমুনার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে জনমতের পূর্ণ প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে রাজ্যে দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

চাকরি কেলেঙ্কারি, গরু ও কয়লা পাচার, মন্ত্রীদের গ্রেফতার এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম—এসব বিষয় সচেতন ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। আরজিকর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কও রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে।

তবে অন্যদিকে গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষকবন্ধু, যুবশ্রীসহ নানা উদ্যোগ গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

এই নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অনেক ভোটার নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভোটার স্লিপ সংরক্ষণ করেছেন। এই বিষয়টি ভোটদানের হার বাড়ার একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটদান এই নির্বাচনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। এত বেশি অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয়, মানুষ তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগে সক্রিয় ছিলেন।

নাগরিকত্ব, পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তৃণমূল এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে, আর বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে।

সবদিক বিবেচনায় স্পষ্ট, এবারের নির্বাচন একতরফা নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত কাছাকাছি এবং ফলাফল নির্ধারণে ব্যবধান কম হতে পারে।

সম্ভাব্য চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে, তবে ভারতীয় জনতা পার্টি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে। এতে রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্য আরও সূক্ষ্ম হয়ে উঠবে এবং বিরোধী চাপ বাড়বে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে