ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জেলে বসেই ৫০ লাখ টাকার হিসাব চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১০:৩৪:৫৮
জেলে বসেই ৫০ লাখ টাকার হিসাব চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কারাবন্দি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের নামে বরাদ্দ হওয়া প্রায় ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এমপি কোটায় তার নামে বরাদ্দকৃত এই অর্থের হিসাব তিনি সম্প্রতি কারাগার থেকে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যারিস্টার সুমন এলাকা ত্যাগ করার পর তার বরাদ্দকৃত অর্থ তৎকালীন ইউএনও একেএম ফয়সাল এবং কয়েকজন অসাধু ঠিকাদার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উত্তোলন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক আনিসুর রহমান রতন এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ এবং রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ পিআইসি কমিটি বা টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই উত্তোলন করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে ফেরত না দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। এতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কয়েকজন নামমাত্র ঠিকাদারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, এলজিইডি দপ্তরে একাধিকবার তথ্য চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এস.এ সাজন তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, “ব্যারিস্টার সুমন এলাকা ছাড়ার পর তার বরাদ্দের সরকারি টাকা কারা উত্তোলন করল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি.এম. সরফরাজ বলেন, “এখানে ব্যক্তিবিশেষ নয়, বিষয়টি সরকারি অর্থের। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক এরশাদ আলী বলেন, “বিষয়টি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ হিসেবে আমাদের জানা আছে। প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে