ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনে ৪০ তারকা নেতা নিয়ে হয় এবার, নয় নেভার

২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৮:১৪:৩৭
নির্বাচনে ৪০ তারকা নেতা নিয়ে হয় এবার, নয় নেভার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে বিজেপির প্রচার এখন পুরোপুরি “সব অথবা কিছুই না” (হয় এবার, নয় নেভার) মানসিকতায় দাঁড়িয়ে গেছে। দলটি এই ভোটকে শুধু আরেকটি নির্বাচনী লড়াই হিসেবে না দেখে ক্ষমতা দখলের শেষ বড় সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্যস্তরের নেতা—সবাইকে মাঠে নামানো হয়েছে এবং সর্বশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

বিজেপির প্রচারের মূল ভরকেন্দ্র তিনটি বড় বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে—উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রচারে বলছেন, বাংলায় “ডবল ইঞ্জিন সরকার” এলে উন্নয়ন দ্রুত হবে এবং দুর্নীতি কমবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং বিজেপি সেই পরিবর্তনের বাহক হতে পারে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করছেন, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে এবং এবার ১১০টিরও বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রচারের মূল বিষয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং “শাসন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা”।

যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রচারে যোগ দিয়ে কঠোর প্রশাসন, অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচয়-রাজনীতির মতো ইস্যুকে সামনে আনছেন। তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে “কড়া শাসন” এবং “আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা”র বার্তা।

রাজ্য পর্যায়ে বিজেপির দায়িত্বে থাকা নেতারা স্থানীয় ইস্যু যেমন—চাকরি, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং নিরাপত্তা—এসবকে ভোটের মূল ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ চালিয়ে ভোটারদের ক্ষোভকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে বিজেপির কৌশল এখন দুই স্তরে কাজ করছে—একদিকে জাতীয় নেতারা বড় রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে স্থানীয় নেতারা সেই বার্তাকে ভোটারের দৈনন্দিন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র মেরুকরণ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করা—যাতে ভোটাররা মনে করেন, এবার ভোট না দিলে রাজনৈতিক পরিবর্তন আর সম্ভব নয়।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই “হয় এবার, নয় নেভার” প্রচার কি সত্যিই ভোটের সমীকরণ বদলে দেবে, নাকি তৃণমূলের সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্ক সেটিকে আটকে দেবে—তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে